November 16, 2018

ভারতে নয় তাজউদ্দিনদের চীনে যেতে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর তৎকালীন আঞ্চলিক প্রধান গোলক বিহারি মজুমদার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার বরণের আগে সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের চীনের যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চীন যদি সহযোগিতা না করে তাহলেই ভারতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর তৎকালীন আঞ্চলিক প্রধান গোলক বিহারি মজুমদারের অপ্রকাশিত স্মৃতি থেকে।

আর বঙ্গবন্ধুর ভারতের পরিবর্তে চীনকে পছন্দ করার তথ্যটি প্রকাশিত হলো এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশের জনগণের নয় মাসের অসম সাহসের রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের বিজয় দাবি করছে ভারত।

এমনকি গত ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবসের দিনে ভারত ‘ভিজয় দিওস’ পালন করেছে। এনিয়ে বাংলাদেশে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই মনে করে ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেয়ে নিজেদের স্বার্থটাই দেখেছে ১৯৭১ সালে। ফলে বাংলাদেশের বিজয়কে শ্রদ্ধা না জানিয়ে ৪৪ বছর পর হঠাৎ করে মিথ্যা দাবি করেছে।

এখন জানা গেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার জন্য চীনের সহযোগিতাই চেয়েছিলেন। ভারতের আচরণে আজ প্রমাণিত যে বঙ্গবন্ধু দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে চীন মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানকে সমর্থন করলেও স্বাধীনতার পর চীন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সামরিক শক্তির বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এ প্রকাশিত সিনিয়র সাংবাদিক এবং দ্য স্টেটসম্যান এর সাবেক সম্পাদক মানাস ঘোষ এর কলামে প্রয়াত বিএসএফ কর্মকর্তা গোলক বিহারি মজুমদারের অপ্রকাশিত স্মৃতি থেকে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়।

গোলক বিহারী মজুমদার’স আনপাবলিশড মেমোরিস-এ রয়েছে, গত জুলাই মাসে আকস্মিক মৃত্যুর ফলে তা তিনি শেষ করে যেতে পারেননি। গোলক বিহারী ‘পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল’ (পিভিএসএম) লাভ করা প্রথম সিভিলিয়ান।

স্মৃতিতে বলা হয়েছে, ২৫ শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের সময় বঙ্গবন্ধু আন্ডারগ্রাউন্ডে যাবেন না এবং ধানমন্ডিতে নিজের বাসাতেই অবস্থান করবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। কিন্তু যদি তাকে গ্রেপ্তার বা হত্যা করা হয় তবে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগে তার সেকেন্ড ইন কমান্ড তাজউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে প্রথমে চীনে যাওয়ারই নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে চীন যদি সাহায্য করতে না চায় তবে শেষ ভরসা হিসেবেই ভারতীয় সাহায্যের চেষ্টা করতে হবে বলেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের নয় মাসের মুক্তি সংগ্রামে ভারত, নির্বাসিত বাংলাদেশের নেতৃত্ব এবং ভারতে প্রশিক্ষিত মুক্তিবাহিনীর মধ্যে যোগসূত্র ছিলেন গোলক বিহারী। সংকটকালে সেই সময়ে তিনি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির কাছ থেকে আদেশ পেতেন। ইন্দিরা গান্ধীও গোলকের প্রজ্ঞায় যথেষ্ট আস্থা রাখতেন। ‘যা উপযোগী মনে হয় করুন, জাতীয় স্বার্থের জন্য সঠিক বিবেচনায় যতদুর যেতে হয় যান’। গোলকের প্রতি এমনই ছিলো ইন্দিরার নির্দেশনা।অনলাইন বাংলা

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts