September 23, 2018

ভারতীয় গুপ্তচর বিতর্কে তোলপাড়ঃ ভিডিও প্রকাশ পাকিস্থানের

30 March, 2016, স্টাফ রিপোর্টঃঃ পাকিস্তানে আটক ‘ভারতীয় গুপ্তচর’ কুলভূষণ যাদব স্বীকার করেছেন বেলুচিস্তান ও করাচিতে সন্ত্রাস উস্কে দেয়ার অভিযোগ। মঙ্গলবার তার এমন স্বীকারোক্তিমুলক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস।

 

পাক সংবাদ মাধ্যম অনলাইন ডন এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে তাকে পাকিস্তানের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন হাতেনাতে আটক করে। কুলভূষণ যাদব ইরানের সঙ্গে বেলুচিস্তানের সারাবন সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তার স্বীকারোক্তির একটি পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্ট মঙ্গলবার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দেশটির তথ্য, সম্প্রচার ও জাতীয় প্রতœতত্ত্ব বিষয়ক মন্ত্রী সিনেটর পারভেজ রশিদ, আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল অসীম সালিম বাজওয়া।

ভিডিওর বক্তব্যঃ

সরবরাহ করা ডকুমেন্টে দেখা গেছে, কুলভূষণ যাদব স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, আমি কমান্ডার কুলভূষণ যাদব। ভারতীয় নৌ বাহিনীতে নিয়োজিত একজন কর্মকর্তা আমি। এখন আমি ভারতীয় নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের একজন ক্যাডার। আমার নাম হিসিবে হুসেইন মুবারিক প্যাটেলও ব্যবহার করি। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার জন্য তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমি এ নামটি ব্যবহার করি। ১৯৮৭ সালে ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমিতে যোগ দিই। এরপর ১৯৯১ সালের জানুয়ারিতে যোগ দিই ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০০১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেখানেই দায়িত্ব পালন করি। এ সময়ে পার্লামেন্টে হামলা হয়। তখন থেকেই আমি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ শুরু করি। কুলভূষণ যাদব বলেন, আমার বসবাস ভারতের মুম্বই শহরে। এখনও ভারতীয় নৌবাহিনীতে কর্মরত। ১৪ বছর চাকরির বয়স শেষ করে ভারতীয় নৌবাহিনীর কমিশন্ড অফিসার হিসেবে আমার অবসরে যাওয়ার কথা ২০২২ সালে। ২০০৩ সালে গোয়েন্দা অপারেশন শুরু করি। ইরানের চাবাহারে চালু করি একটি ছোট ব্যবসা। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে করাচি সফরে আসি। এখানে অবস্থান করি। কেউ তখন আমাকে সনাক্ত করতে পারে নি। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’য়ের জন্য মৌলিক কিছু এসাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করি। ২০১৩ সালে আমাকে নিয়ে নেয় ‘র’। তারপর থেকেই আমি বেলুচিস্তান ও করাচিতে এ সংস্থার পক্ষে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছি। তার মধ্য দিয়ে করাচির আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হয়। আমি ‘র’য়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি অনীল কুমার গুপ্তের লোক ছিলাম প্রকৃতপক্ষে। আমার কাজ ছিল বেলুচিস্তানে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের সহযোগিতায় কর্মকান্ড পরিচালনা করা। এসব কর্মকাণ্ড ছিল ক্রিমিনাল প্রকিৃতির। এতে মানুষ মারা যেতেন। পাকিস্তানি নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এ প্রক্রিয়ায় আমি বুঝতে পারি যে, বেলুচিস্তানে যে স্বাধীনতা আন্দোলন চলছে তাতে ‘র’ জড়িত।

ভারতের বক্তব্যঃ
গতকাল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্তনালয় তার গুপ্তচর বৃত্তির কথা বর্জন করে বলেছে, কুলভূষণ যাদবকে নির্যাতন করে ওই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা হলো, তাকে ইরান থেকে পাকিস্তানিরা তুলে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানে ব্যবসা করতেন এমন ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক এক কর্মকর্তার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। আমরা তা দেখেছি। তবে এর কোন সত্যতা নেই। এতে ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। কিন্তু তাকে নির্যাতন করা হয়েছে এমন ইঙ্গিত স্পষ্ট।

অন্যদিকে ভারত পাকিস্থান কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে বলেছে, যাদবের সাথে কন্সুলার সার্ভিসের অধীনে সাক্ষাৎ করারও অনুমতি দেয়া হয়নি।

Related posts