September 20, 2018

ভাগ্নের আবেদনে মামী সাড়া না দেয়ায় ৫ খুন!

131

যৌন আবেদনে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ঘটনায় নিহত তাসলিমার স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও ১২ লাখ টাকা ঋণের জের ধরেও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রথম একটি কারণ হিসেবে অভিযোগ করা হয়।

রোববার সকালে দুই শিশুসহ পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত তাসলিমা বেগমের স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় তিনি এ অভিযোগগুলো উল্লেখ্য করেন।

তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- তারা টাকা, প্রেম ও পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ আরো ছোটখাটো বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। যাতে কোনো নিরপরাধ যেন এর সাথে না জড়িত হয়। এছাড়াও তারা অভিযোগের দ্বিতীয় কারণ যৌন আবেদনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই এগুচ্ছো বলে জানান।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে সাতজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, আমার স্ত্রী তাসলিমা (২৮), মেয়ে সুমাইয়া (৪), ছেলে শান্ত (১০), ছোট ভাই শরীফ (২২) ও তার স্ত্রী লামিয়া (২০), শ্যালক মোর্শেদুল ওরফে মোশাররফ নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে ইসমাইল হোসেনের বাড়ির নিচ তলার ফ্ল্যাটে বসবাস করে আসছিলেন।

আমি ১০ বছর ধরে ঢাকার জনৈক জিয়ারুল হাসানের গাড়িরচালক হিসেবে কর্মরত। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আমি শহরের বাবুরাইলের বাসায় আসতাম। তবে গত ১৬ জানুয়ারি রাত ৮টা ৪০ মিনিটে আমার ছোটভাই শরীফ মোবাইলে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে যে, কে বা কারা আমাদের বাবুরাইলের ফ্ল্যাটে তালা মেরে পালিয়ে গেছে। পরে আমরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দু’টি কক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের মৃতদেহ দেখতে পাই।

আমি পরস্পরে জানতে পারি যে, আমার স্ত্রী তাসলিমার কাছে ঢাকার কলাবাগানের নাজমা ও শাহাজাহান নামের একাধিক ব্যক্তি প্রায় ১২ লাখ টাকা পেতো। যা মাসিক চক্রবৃদ্ধি সুদে নেয়া ছিল। উক্ত টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদাররা প্রায় সময়ই হুমকি দিত। এমনকি নাজমাও মাঝে মধ্যে আমার পরিবার সন্তানদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে বলে হুমকি প্রদান করতো। আমার শ্যালক মোর্শেদুল ওরফে মোশাররফের কাছেও টাকা পেতো অনেকে। টাকা পয়সা পাওয়ার সুবাধে পাওনাদাররা আমার বাসায় যাওয়া আসা করতো এবং এ ব্যাপারে চাপ প্রয়োগও করতো।

এছাড়া আমার ভাগিনা মাহফুজ আমার ছোটভাই শরীফের স্ত্রী লামিয়ার সঙ্গে ঢাকায় বসবসাসের সময়ে যৌন আবেদন করিলে পরবর্তীতে ভাগিনা মাহফুজকে আমরা ঢাকায় রেখে নারায়ণগঞ্জ চলে আসি। ভাগিনা মাহফুজ পুনরায় নারায়ণগঞ্জ আমাদের বাসায় এসে শরীফের স্ত্রী লামিয়ার সঙ্গে একই ধরনের ব্যবহার ও আচরণ করতো। এতে আমার ভাইয়ের স্ত্রী লামিয়া অসন্তুষ্ট হয়।

আমার স্ত্রী তাসলিমা ও ছোটভাই শরীফের কাছে লামিয়া বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়। এতে করে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে উক্ত ব্যক্তি (মাহফুজ)সহ অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা একই উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যেকোনো সময়ে শক্ত কোনো ভোতা অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম ও গলায় ফাঁস লাগিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে তাসলিমার স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল সেট ও শ্যালক মোর্শেদুল ওরফে মোশারফের মোবাইল ফোন পাওয়া যাচ্ছে না।বাংলামেইল

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts