September 24, 2018

‘ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয় নাই’

2541-(3)

নিজেস্ব প্রতিবেদক: মো.আব্দুল হামিদ,বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তবে অন্যদের চাইতে একটু ভিন্ন। বেশ রসিক বটে। হাসেন অন্যদের হাসান। এবারও তার ভিন্ন চিত্র ঘটেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ৫০তম সমাবর্তনে লিখিত বক্তব্যের বাইরে গিয়ে কথা বলেন পদাধিকারবলে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আবদুল হামিদ। যখন তিনি বক্তৃতা দিতে মঞ্চে উঠেন সঙ্গে সঙ্গে অন্যরকম একটি পরিবেশ তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে চাই। নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আমি ম্যাট্রিক থার্ড ডিভিশন। আইএ পাশ করছি এক সাবজেক্ট… লজিকে রেফার্ড। সঙ্গে সঙ্গে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত ১৮ হাজার গ্রাজ্যুয়েট।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য…তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয় নাই। বন্ধু-বান্ধব অনেকে ভর্তি হইলো, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তখন আমি যুক্ত। ভর্তি যখন হইতে পারলাম না, তখন দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে (কিশোরগঞ্জে) ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম।”

আবদুল হামিদ বলেন, “বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করতাম। প্রায়ই ঢাকা আসতে হত। বিভিন্ন হলে থাকতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার সময়ে যেখানে ঢুকি নাই।

অনেকটা কৌতুকের ছলে রাষ্ট্রপতি বলেন, অবশ্য রোকেয়া হলে ঢুকিও নাই, থাকিও নাই। সুযোগ ছিলনা। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করসি কম না।

তিনি আরও বলেন, “নিজের কথা কি বলব, ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়াই, বিয়া একখান কইরা ফালাইছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র সংগঠনের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারির বয়স ৪৫-৫০ বছর। এই যদি বয়স হয়…। ২৫-২৬ বছর বিয়ার বয়স ধরা হয়। ২৫ বছরে কেউ যদি বিয়া করে, তাহলে ৫০ বছর বয়সে তার এক সন্তানেরই তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কথা। বাপ-পুত মিলাই ইউনিভার্সিটিতে থাকার কথা। বাপ নেতা আর ছেলে ছাত্র। এটা হইতে পারে না।

এসময় আমি আমাদের সন্মানিত সম্মানিত ভিসি সাহেবকে অনুরোধ করেছিলাম, শীতকালে এই সমাবর্তন আয়োজন করতে।

এসময় রেলমন্ত্রী মুজিবুলে হকের বেশি বয়সে বিয়ে করা নিয়ে হাস্যরসে মেতে ওঠেন আবদুল হামিদ বলেন, “এখন বলতে পারেন, কিছুদিন আগে রেলমন্ত্রী বিয়া করছেন… (নিজেও হেসে ওঠেন এসময়)। এটা রেয়ার কেস। অসময়ের কিছু সবসময় ভালো হয় না। মৌসুমের কাঁঠাল যে মজা লাগে পরের কাঁঠাল এত মজা লাগে না। (আবারো হাসির রোল।)

পরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “লিখিত বক্তব্য আছে… আসলে মনের কথা লেখা…। আমরা প্রেমপত্র লিখতাম… তখন বিভিন্ন বই থেকে দেইখা কোটেশন তুইলা…এখন প্রেমপত্রও লেখা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন মেসেজ। প্রেমপত্র লেখাও সাহিত্য।”

Related posts