September 21, 2018

ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ, কে এই ব্যবহারকারী ?

ঢাকাঃ  চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ ভবন নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনি সিংকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের পল্লবীর বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক খন্দকার লুৎফুল কবীর জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পল্লবীর বাসা থেকে মনি সিংকে গ্রেফতার করা হয়। মনি সিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয় ইন্টারন্যশনাল কনস্ট্রাকশনের মালিক। দর্শনায় রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করার ঘটনায় হওয়া মামলার তিনি প্রধান আসামি। তাকে মামলা তদন্তকারী সংস্থা দুদকে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুদক মনি সিংকে গ্রেফতারে সহযোগিতা চেয়েছিল। ঘটনার পর থেকে মনি সিং পলাতক ছিলেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুষ্টিয়া কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আব্দুল গাফফার জানান, গ্রেফতার মনি সিংকে গতকাল ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে আসামি আইয়ুব হোসেন ৩০ দিনের অসুস্থতার ছুটি নিয়েছেন। তিনি আসলেই অসুস্থ কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাংলাদেশ ফাইটোসেনেটারি ক্যাপাসিটি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অধীনে দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও পরীক্ষাগার ভবনের নির্মাণ কাজে ভবনের লুপ ঢালাইয়ে রড না দিয়ে বাঁশ এবং খোয়ার পরিবর্তে পরিত্যক্ত সুরকিসহ নিন্মমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার এ প্রকল্পের কাজ করে মেসার্স জয় ইন্টারন্যাশনাল কনস্ট্রাকশন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ১১ এপ্রিল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সিনিয়র মনিটরিং ইনভ্যালুশন অফিসার মেরিনা জেবুন্নাহার বাদী হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন জয় কনস্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনি সিং, পরামর্শক ফার্ম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সাত্তার, প্রকল্পের কনসালট্যান্ট আইয়ুব হোসেন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও আইসিটি উইংয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আইসিটি ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন। মামলার তদন্তভার ১৩ এপ্রিল দুদকে হস্তান্তর করেন দামুড়হুদা জুডিসিয়াল আদালত। এ ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

সূত্র জানায়, ঘটনার পর পিডি সাদেক ইবনে সামসকে খাগড়াছড়িতে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলেও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর আপত্তির মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে বাঁশ পিডিকে কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। আর মামলার আসামি আইয়ুব হোসনকে বরগুনা জেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হলে তিনি অসুস্থার কারণ দেখিয়ে ৩০ দিনের ছুটি নিয়েছেন। এর আগে উদ্ভিদ সংগনিরোধের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বিশ্বাস ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জেমস কষ্টাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৬ মে ২০১৬

Related posts