November 16, 2018

ব্রীজ ভেঙ্গে ২ বছর ধরে খালে, দুই ইউনিয়নবাসীর চরম ভোগান্তি

রহিম রেজা,
ঝালকাঠি থেকে: 
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের পূর্ব আশিয়ার গ্রামে ব্রীজটি (আয়রন-ঢালাই) প্রায় দুই বছর আগে আকস্মিক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে রয়েছে দুই ইউনিয়নের ৬ গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়রা দ্রুত বীজটি নির্মানের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানালেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা সুরাহা পাননি। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী এবং স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা। সেতুর অভাবে কয়েক মিনিটের পথ দীর্ঘ কয়েক মাইল পথ ঘুরে পায়ে হেটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যানবাহনের অভাবে ওই এলাকার অসুস্থ রোগীদের সময়মত হাসপাতালে নেয়া যাচ্ছে না।

সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিতে না পারায় চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগীর মৃত্যুরও কারন হয়ে দাড়িয়েছে এ ব্রীজটি। একাধিক স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে এলজিইডির আওতায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালিঘোনা ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব আশিয়ার গ্রামের খালের ওপরে এ ব্রীজটি নির্মান করা হলে দুই গ্রামের সংযোগ হয়। নির্মানের সময় নিন্মমানের নির্মান সামগ্রি ব্যবহার করা অবকাঠামোগত ভাবে নরবরে ছিল এ সেতুটি ব্রীজটি, অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়া মাদক সেবীরা ব্রীজের খুটির এ্যাঙ্গেল চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় গত ২ বছর পূর্বে ব্রীজটি আকস্মিক ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নের আশিয়ার ও মুড়াশাতা এবং গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কালিয়ারগোক ও বালিঘোনাসহ ৫/৬টি গ্রামের মানুষ এ ব্রীজের অভাবে সড়ক পথে যাতায়াত করতে পারছে না। সময়মত স্কুল ও কলেজে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। যে কারনে সমস্যায় পরে অনেকেরই লেখাপড়া বিঘ্ন ঘটছে। মুড়াশাতা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক জানান, ব্রীজটা ভাল থাকলে অনেক কম সময়ে মোটর সাইকেলে করে জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে পারতাম। কিন্ত এখনতো তা পারছি না। সময়ের কাজ সময়মত না করতে পারলে লাভ কি?। বালিঘোনা গ্রামের কলেজ ছাত্র রবিউল ইসলাম জানান, ব্রীজের অভাবে মাত্র কয়েক মিনিটিরে পথ অনেক দূর ঘরে কয়েক কিঃমি পথ পায় হেটে প্রতিদিন কলেজে যেতে হচ্ছে। সময় মত কোন ক্লাস করতে পারছি না।

আরমা দ্রুত এই ব্রীজটি নির্মানের দাবি জানাচ্ছি। গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা মাসুম শেরওয়ানী জানান, ব্রীজটি ভেঙে যাওয়ার কারনে গাভারামচন্দ্রপুর ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খুবই দ্রুত ব্রীজটি নির্মান করা প্রয়োজন। ওই দুই ইউনিয়নের মানুষ এ সমস্যা সমাধানে শিল্পমন্ত্রীর আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিনয়কাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, ব্রীজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ব্রীজটি নির্মানের জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবেন। ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফউদদৌলা বলেন, এখনও ব্রীজটি নির্মানে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টিীমেট করে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠালে আশা করি পরবর্তী প্রকল্পে এ ব্রীজটি অন্তুরভুক্ত করা যাবে এবং ব্রীজটি নির্মান হবে।

কাঠিপাড়ার ব্রীজ- মরণ ফাঁদ!

ঝালকাঠির রাজাপুরের শুক্তাগড় ইউনিয়নের কাঠিপাড়া-শুক্তাগড় সড়কের দক্ষিন কাঠিপাড়া হামদু আলীর বাড়ি সংলগ্ন খালের উপরের ব্রীজটি দীর্ঘ সাড়ে ৪ বছর ধরে জরাজীর্ণ হয়ে মানুষ মারার ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ফলে ওই এলাকার মাদ্রাসা ও স্কুলের শিক্ষার্থীসহ দেড় শতাধিক পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর ধরে এ ব্রীজটির এ্যাঙ্গেল ভেঙ্গে ও বেকে গিয়ে জরাজীর্ন অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ব্রীজের পাটা রক্ষার জন্য নিচ দিয়ে শুপাড়ি গাছ দিয়ে যাতায়াত করছেন। এ ব্রীজটি দিয়ে শুক্তাগড় ইউনিয়নের দক্ষিন কাঠিপাড়া ও শুক্তাগড় গ্রামের মানুষ রাজাপুর, শুক্তাগড়, লেবুবুনিয়া বাজারে যাতায়াত করছেন। এ ব্রীজ দিয়ে শুক্তাগড় মাহমুদিয়া মাদ্রাসা ও এস ডব্লিউ কাঠিপাড়া স্কুলের শতশত কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করলেও কোন যানবাহন চলাচল একবারেই অসম্ভব।

এতে করে ওই সকল এলাকার লোকজন অসুস্থ্য হলে তাদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। লোকজন ভারী বোঝা নিয়ে ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচল করতে না পেরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ব্রীজটি জরাজীর্ণ হওয়ায় শুক্তাগড় মাদ্রাসা ও কাঠিপাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীসহ ওই দুই গ্রামের দেড় শতাধিক পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজাপুর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মোঃ লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ করা হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts