March 23, 2019

ব্রিটেনে বাঙ্গালীর দুর্দিন


যায় দিন ভালো, আসে দিন খারাপ। এমন প্রবাদের বাস্তবতার বৃত্তে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ব্রিটেনের জীবনধারা। বছর ঘুরতে বাড়ছে কাউন্সিল ট্যাক্স,ঘর ভাড়া আর জিনিসপত্রের দাম। কিন্ত বাড়ছে না আয়। গত ১ এপ্রিল থেকে ব্রিটেনে মিনিমাম লিভিং ওয়েজেস কার্যকর হলেও এই সুযোগ সবার জন্য কার্যকর হয়নি। বাড়ছে প্রেসক্রিপশন ব্যায়। আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন বাড়তি ব্যায়ের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে লাখ লাখ পরিবার। ব্রিটেনে বাঙ্গালীর প্রধান ব্যাবসা রেষ্টুরেন্ট সেক্টরে ভর করেছে ষ্টাফ সংকট সহ নানা বিপত্তির মেঘ। অন্যান্য ব্যাবসাতেও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগীতায় টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন কমিউনিটির ব্যাবসায়ীরা। মিনিক্যাবে নেই আগের সুদিন। ডেলিভারীর মতো অপেক্ষাকৃত ছোট জব সেক্টরেও এখন ইউরোপিয়ানদের ছড়াছড়ি। দুই মেয়াদের কনজারভেটিভ সরকার আমলে নি¤œ আয়ের মাইগ্র্যান্ট কমিউনিটির দুর্ভোগ বেড়েছে এমন বক্তব্য ব্রিটেনের বিরোধীদল লেবার পার্টির। ইউরোপ ইস্যু সহ নানা সংকট, গত নির্বাচনের বৈতরনী পেরুতে দেয়া প্রতিশ্রুতি আর তা বাস্তবায়নে ধীরগতিতে চাপে আছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন আর তার দল কনজারভেটিভ পার্টিও। ব্রিটেনে বাড়ী ঘরের আকাশচুম্বি দামের কারনে অনেকের নিজের বাড়ী কেনার সপ্ন কেবল সপ্নই রয়ে যাচ্ছে। বাই টু লেট,রাইট টু বাই সহ সরকার নানা সুবিধার ঘোষনা দিলেও বাস্তবতা হলো বেশিরভাগ পরিবারের দুজনেও আয়েও ঘরের মটর্গেজ মিলছে না। সরকার জমানো অর্থে লাভ বাড়ানোর কথা বললেও অনেকের সঞ্চয়ের খাতা শুন্য।

বাংলাদেশে সরকার আসে-সরকার বদলায়। কিন্তু কমিউনিটির প্রবাসী  প্রবীনদের দেশে সম্পদ বেহাত-দখল আর হয়রানিমুলক মামলার ভোগান্তি শেষ হয় না। দুর্ভোগ এড়াতে দেশে নিজেদের জায়গা-বাড়ী মার্কেট সহ অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করতে চাইছেন প্রায় বেশিরভাগ প্রবাসী। কিন্তু আশংকার কথা হচ্ছে, দেশে জায়গা-জমির দাম গত এক দশকে কয়েকগুন কমে গেছে। নিরুপায় হয়ে কম দামে বিক্রি করে সে অর্থ এদেশে এনে কাজে লাগানোর পথও প্রায় বন্ধ। কারন প্রবাসীদের বড় প্লট বা বিশাল ফ্লাট কেনার আগের মতো আগ্রহী ক্রেতা নেই দেশে।

ব্রিটেনে জন্ম  আর বড় হওয়া ব্রিটিশ-বাংলাদেশী তরুনদের একটি অংশ শিক্ষা,চাকুরীর ক্ষেত্রে সাফল্যেও উজ্জল্য ছড়ালেও বড় একটি অংশই নিজেদের জীবন-জীবিকা আর ক্যারিয়ারের প্রশ্নে ভুগছেন হতাশায়। আইএস আর জঙ্গিবাদ ইস্যু গেল ক বছরে মরার উপর খড়ার ঘা হিসেবে সংকটের সমারোহে যোগ করেছে নতুন নেতিবাচকতা। কমিউনিটি সংগঠনগুলোও কমিউনিটির সম্পৃক্ত ইস্যুতে সংহত ঐক্য গড়তে পারেনি। অনেক সংগঠন উল্টো নিজেদের বিরোধ নিয়ে গনমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

সব মিলিয়ে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নতুন বছরেও নেই কমিউনিটির জন্য আশা জাগানিয়া কোন সু-সংবাদ।

ইমিগ্রেশন নিয়ত্রনে সরকারের ফাকঁ-ফোকর বন্ধে নেয়া সর্বাত্মক উদ্যোগ রয়েছে অব্যাহত। ব্রিটেনে এসাইলাম পেলেও স্থায়ী হবার সুযোগ থাকছে না। গতকাল ৬ এপ্রিল থেকে এসাইলাম আবেদনের ক্ষেত্রে যে দেশ হয়ে ব্রিটেনে পৌছুবেন আবেদনকারী সেই দেশে ফেরৎ পাঠানোর নীতি কার্যকর করেছে সরকার। ব্রিটেনে ইনডেফিনিট লীভ টু রিমেইন বা আইএলআর এর ক্ষেত্রে লাইফ ইন দ্যা ইউকে টেষ্টের প্রশ্নপত্রের ধরন গত কয়েক বছরে পাল্টেছে অনেকখানি। ব্রিটেনে স্থায়ী হবার ক্ষেত্রে ইসলের লেভেল বাড়ানো এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণের বিধান চালুর প্রস্তাব নিয়ে ব্রিটেনে নানা গুঞ্জন চলছে।

দেশ থেকে ব্রিটেনে আসার হার গত কয়েক বছরে কমেছে কয়েক গুন। ব্রিটিশ ভিসা কেন্দ্র দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে সরকার। সে আন্দোলনও হারিয়েছে গতি।

আমাদের সময়
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts