September 22, 2018

ব্রিটিশ-বাংলাদেশী`চেম্বারের ২৫ বছরঃ এনাম আলীর দায়িত্ব গ্রহন

Picture: British Bangladesh Chamber of Commerce and Industry, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিবিসিসিআই)

নাজমুল হোসেন, লন্ডন থেকেঃ ‘ব্যবসায়ীক সফলতায় সহায়তা’ এ নীতিকে মূলমন্ত্র হিসেবে ধারন করে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিবিসিসিআই)২৫তম বছরে পদার্পণ ও বার্ষিক গালা ডিনার জাঁক- জমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এছাড়াও নতুন কমিটির কাছে বিদায়ী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হয় একই সাথে গত ২৪ মে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম ব্যানকুইটিং হলে।

নতুন কমিটির পক্ষে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই বিদায়ী কমিটির পক্ষে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মাহতাব চৌধুরী কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেন।

সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক দূত, বেথনালগ্রীন ও বো আসনের এমপি রুশনারা আলী আর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুশনারা আলী এমপি ইউরোপিয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রশ্নে আসন্ন গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ইইউর পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ইইউ ছাড়লে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার খর্ব হতে পারে বিশেষ করে মানবাধিকার, অ্যাসাইলাম এবং কর্মক্ষেত্রে সমঅধিকার বিষয়ক আইন যার মাধ্যমে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে।

বিশেষ অতিথি ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যের প্রধান মন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন তাঁকে বলেছেন বিবিসিসিআই- এর নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই প্রধান মন্ত্রীর বন্ধু। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগসও ইইউতে থাকার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন।

গত ১০ বছরে সংগঠনের একমাত্র নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই বলেন, বিবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের সকল মেম্বার ও ডাইরেক্টরদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়িক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। সংগঠনকে আরও বেশি কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে তাঁর নানা পরিকল্পনা আছে জানিয়ে এনাম আলী বলেন, ব্যবসায়ী কিংবা কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি শুনতে চান এবং এসব সমস্যা সমাধানে তিনি স্বাধ্যমত চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্যে বিবিসিসিআই-এর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী বলেন, নতুনদের হাতে বিবিসিসিআইয়ের হাল তুলে দিতে তিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তিনি চেয়েছেন, নতুন মেধা ও নতুন নেতৃত্ব বিবিসিসিআইয়ের হাল ধরে সংগঠনটিকে নতুন এক দিগন্তের পথে নিয়ে যাক।

সংগঠনের বিদায়ী ফাইনেন্স ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ডাইরেক্টর জেনারেল সাইদুর রহমান রেনু বলেন, বিবিসিসিআই গত দুই বছর বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও বিদায়ী কমিটির মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মনির আহমদ বলেন, গত দুই বছর বিবিসিসিআই-এর মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনের স্বার্থ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্টানে বিবিসিসিআই-এর ডাইরেক্টর হিসেবে যোগ দেয়া ১৪ জন নতুন ডাইরেক্টরকে পরিচিয় করিয়ে দেয়া হয়, পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় গত নব নির্বাচিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের।

পরিশেষে ডিনার ও বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ ( বিবিসিসিআই ) বৃটেনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের বৃহত্তম সংগঠন।

Related posts