November 16, 2018

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে হাউস অফ লর্ডস সেমিনার

অগ্রহণযোগ্য সরকারের কারণে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে।

 

IMG_20170117_165349  মুহাম্মদ নূরে আলম (বরষণ) লন্ডন থেকে  : বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে । বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না থাকায় দেশে হত্যা, গুম, রাহাজানি ও সহিংসতা বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে লর্ড, এমপি এবং মানবাধিকার কর্মীরা।  গতকাল মঙ্গলবার ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ ভয়েস ফর বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, ইউকের যৌথ উদ্যোগে হাউস অব কমন্সে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের সাবেক নির্বাচন কমিশনার  ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।  ভয়েস ফর বাংলাদেশের প্রধান আহ্বায়ক ও বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন, ইউকের প্রতিষ্ঠাতা আতাউল্লাহ ফারুকের পরিচালনায় আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লর্ড এন্ড্রু স্ট্যানেল। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- লর্ড হোসাইন , পাওয়েল স্ট্যানেলএমপি, কেলভিন হোপকিন্স এমপি, সাইমন ডানুজক এমপি, ব্রিটেনের বিখ্যাত আইনজীবী যুদ্ধাপরাধ মামলার বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান, মানবাধিকার সংগঠক আব্বাস ফায়েজ, ড. নাজিয়া প্রমুখ।     এম সাখাওয়াত হোসেন মূল আলোচনায় বলেন, বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়ার কারণে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৭.১৩ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৫৫.৪৫ শতাংশ অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে আমরা দেখতে পাই ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ ভোট দেয়। ১৫৪ সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হন।

 

দেশ-বিদেশে ওই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচন গঠন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।   ব্রিটিশ পার্লামেন্টের লর্ড- লর্ড এন্ড্রু স্ট্যানেল সভাপতি বক্তব্যে বলেন, প্রবাসি বাংলাদেশিরা তাদের দেশের বিভিন্ন দাবি নিয়ে আমাদের কাছে আসেন। আমি তাদের দাবির সাথে একমত। তবে আমাদের একার পক্ষে তেমন কিছু করার নেই। আমি তাদের পরামর্শ দিয়ে বলবো, আপনারা ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করে আপনাদের দাবি স্থানীয় এমপিদের কাছে উপস্থাপন করেন। তারা পার্লামেন্টে আপনাদের দাবি উপস্থাপন করলে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ সরকারকে চাপ দিতে পারে।  ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাইমন ডানুজক এমপি বলেন, বাংলাদেশে সুশীল সমাজ চুপসে যাচ্ছে এবং সুশীল সমাজের জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে জঙ্গিরা। বাংলাদেশে গণতন্ত্র না থাকায় আইনের শাসন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকারের উচিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করা। তিনি বাংলাদেশের বিগত জাতীয় নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেন সকল দলের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়।  ব্রিটিশ আইনজীবী যুদ্ধাপরাধ মামলার বিশেষজ্ঞ টবি ক্যাডম্যান বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সংলাপই হতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান এবং বাংলাদেশের গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সারা দেশে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল-এর নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে। এদের কেউ কেউকে পঙ্গু এবং অনেককে নিহত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে।  হিউম্যান রাইটস সংগঠক আব্বাস ফায়েজ বলেন, বাংলাদেশে এক সময়ের দীর্ঘকালীন সামরিক শাসক এরশাদ যেখানে বিরোধী দলে সেখানে গণতন্ত্রের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। এ সরকারের আমলে পুলিশ-র‌্যাব ডিবি’র পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদের কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করছে। শুধু গ্রেপ্তার করেই ক্ষান্ত নয় তারা। মোটা অংকের টাকা না দিলে তাদের ক্রসফায়ারের হুমকি দেয়া হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করায় অনেক সাংবাদিক, ব্লগার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের গুম করে ফেলা হচ্ছে।  কেলভিন হোপকিন্স এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার চরম হুমকির সম্মুখীন, তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা নেই এবং আইসিটি অ্যাক্ট বাকস্বাধীনতার জন্য একটি হুমকি।   বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা, হত্যা, গুম, খুন, রাহাজানি বন্ধ এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আয়োজিত ওই সেমিনারের আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী স্টুডেন্টস বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ইউকের আহ্বায়ক এসএইচ সোহাগ, ভয়েস ফর বাংলাদেশ ইউকে শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল জামিল।

 

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, কানিস ফাতিমা, মো. ফরহাদ হোসাইন, মো. আলা উদ্দিন রাসেল, আব্দুর রহিম, আইনজীবি মো. ডলার বিশ্বাস, লুৎফর রহমান লিংকন, পারভীন ববি,  মাহামুদুল হাসান, লুৎফর রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, শেখ মহিতুর রহমান বাবলু,  হাসনাত চৌধুরী, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, গরিব হোসেন, লুবা চৌধুরী, জাহাঙ্গীর শিকদার, আকলিমা ইসলাম প্রমুখ। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠক ফরিদুল ইসলাম, মনিরুল হক, মাহমুদ আহমদ, আলী শাহাজাদা, জামিল ভূইঁয়া, লায়েক মিয়া, জাকির আহমেদ ভূইঁয়া, সালাউদ্দিন মাহমুদ প্রমুখ।

Related posts