November 21, 2018

ব্যাপক সাড়া পড়ছে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনে !

বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা ভুল সংশোধনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার মানুষ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করছেন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আবেদনকারীর মধ্যে বেশির ভাগই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ ও সমন্বয়ে নতুন পে স্কেলে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের বাধ্যবাধকতার প্রসঙ্গ তুলে সরকারি চাকরিজীবীদের যাঁদের পরিচয়পত্র নেই, তাঁদেরও দ্রুত নিবন্ধন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এর পর থেকেই বেড়ে গেছে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের হিড়িক। এই চাপ সামাল দিতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সব ছুটি বাতিল করে কাজ করে যেতে হচ্ছে।

২০০৮ সালে বিতরণ করা জাতীয় পরিচয়পত্রগুলোর মধ্যে প্রচুর ভুল রয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম থেকেই সংশোধনের উদ্যোগ না নেওয়ায় এ মুহূর্তে সৃষ্টি হয়েছে সংকট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পর থেকেই হাজার হাজার ভুল পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়ছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন জমা দিতে আসা এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, পরিচয়পত্রে তাঁর জন্মতারিখ ভুল ছাপা হয়েছে। জামালপুর থেকে আসা আরেক সরকারি কর্মচারী শরীফ আহমেদ জানান, পরিচয়পত্রে তাঁর জন্মসাল ভুল এসেছে।
তবে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীই নয়, ভুল পাওয়া যাচ্ছে সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্রেও। বরিশাল থেকে আসা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তাঁর বাবার নাম ভুল করার কারণে এখন সংশোধনের আবেদন করতে হচ্ছে তাঁকে।

যশোর থেকে আসা রাজীব আহমেদও তাঁর পরিচয়পত্রে ভুলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করেন।

এ বিষয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিভাগের কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, ভুলগুলো আগেই সংশোধন করে নিলে এ ধরনের সংকটের সৃষ্টি হতো না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, প্রাথমিকভাবে সঠিকভাবে ফরম পূরণ না করা এবং পরে কম্পিউটারে ডাটা এন্ট্রির সময় ভুল করা—প্রধানত এ দুটি কারণেই পরিচয়পত্রে ভুল হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রচুর ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শুরুর দিকে বিতরণ করা পরিচয়পত্রগুলোতে অনেক ভুল পাওয়া গেছে। তবে এর পর থেকে আর ভুল হচ্ছে না বলেও দাবি করেন তিনি। প্রতিদিন ১০ হাজারের মতো সংশোধনের আবেদন এলেও লোকবলের অভাবে পাঁচ হাজারের বেশি সমস্যা নিষ্পত্তি করা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

বাধ্যতামূলক না হলেও দেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট তৈরি করার মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজে কয়েক বছর ধরেই জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশনের জন্যও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts