September 22, 2018

ব্যাংককে তরুণ নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দএন প্রফেসর ইউনূস

ভাষণ দিচ্ছেন প্রফেসর ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্টাঃ    গতকাল বুধবার রাতে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাংককে ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট ২০১৫ উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে তিনি পৃথিবীর ১শ ৯৬টি দেশ থেকে আগত ১ হাজার ৩০০শ জন তরুণ নেতাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

বৃহস্পতিবার ইউনূস সেন্টার থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।

ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট ডেভিড জোনস ও কেট রবার্টসন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবান তরুণদের সমবেত করা। এছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে স্থায়ী সংযোগ তৈরির জন্য তাদের ক্ষমতায়ন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কারীদের স্বাগত জানান এ বছরের ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিটের আয়োজক ব্যাংককের গভর্নর এবং ব্যাংকক মেট্রোপলিটান প্রশাসন।

প্রফেসর ইউনূস সম্মেলনে তরুণ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, যে মানব জাতির ইতিহাসে তাদের প্রজন্মই সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তিনটি শূন্যের- শুন্য দারিদ্র, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বণ নিঃস্বরণের-সমন্বয়ে একটি নতুন বিশ্ব গড়ে তোলার সব ধরনের ক্ষমতা ও সৃষ্টিশীলতা তাদের মধ্যে রয়েছে। তিনি মঞ্চে উঠার সাথে সাথে উপস্থিত ১হাজার ৩০০ জন নবীন নেতারা ওঠে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অপর দু’জন বক্তা ছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান এবং দারিদ্র্র বিমোচন কর্মী স্যার বব গেলডফ। মঞ্চে প্রফেসর ইউনূস, কফি আনান ও গেলডফের সাথে যোগ দেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আগত নবীন প্রতিনিধিদের কাউন্সেলরা, তাদের মধ্যে ছিলেন হলিউডের প্রযোজক জন ল্যানডো ও বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ষ্টিভ ওয়াহ।

পৃথিবীর ১শ ৯৬টি দেশ থেকে ১হাজার ৩০০শ জন নবীন নেতাদের অংশগ্রহণে ২০১৫ সালের ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড সামিট পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ণ, শিক্ষা, যুব বেকারত্ব ও বৈশ্বিক ব্যবসায়ের ভুমিকার মতো বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুর ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এই সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১০ সদস্যর একটি প্রতিনিধিদল যোগ দেন। যাদের ৯ জনই নারী। ওয়ান ইয়ং ওয়ার্ল্ড এ নিয়ে ৩য় বছরের মতো প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে ১০ সদস্যর প্রতিনিধিদলকে স্পন্সর করছে। ইউনূস সেন্টার কয়েক মাসব্যাপী একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্রতিনিধিদের বাঁছাই করে। এরা যুব উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে। গত বছরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে।

সম্মেলনের ২য় দিনে প্রফেসর ইউনূস সামাজিক ব্যবসার ওর একটি বিশেষ প্লেনারী সেশনে বক্তব্য রাখবেন। এদিন আরো থাকছে থাই সামাজিক উদ্যোক্তাদের ৪টি টিম কর্তৃক তাদের সামাজিক ব্যবসা পরিকল্পনা উপস্থাপন। এরা সকলেই থাই সামাজিক উদ্যোগ অফিস আয়োজিত থাই ইয়ং লীডার প্রোগ্রামের ফাইনালিষ্ট। এই কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে ১০০টি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধরা। প্রফেসর ইউনূস ও তাঁর টিমকে এই সামাজিক ব্যবসা প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করার ও বিজয়ীদের বাঁছাই করার জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

টিমে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোর্শেদ। বিজয়ী প্রতিযোগীকে সামাজিক ব্যবসা শুরু করার জন্য ২ মিলিয়ন বাথ পুরস্কর প্রদান করা হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts