April 19, 2019

ব্যক্তি ইমেজেই সোনারগাঁয়ে বাজিমাত, দুটি দলকেই বয়কট!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ   সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে ব্যক্তি ইমেজের কাছে শেষ পরাজিত হলো ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক ও বিএনপির ধানের শীষ। এ পৌরসভাতে বিচ্ছিন্ন ঝামেলা হলেও বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ হয়েছে। আর সে ভোটে ফল এসেছে জগ প্রতীকের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান ভূইয়া।

৯টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন মোট ৯ হাজার ৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৫ ভোট। অপরদিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন তৃতীয় হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল আজাদ পেয়েছেন (নারিকেল প্রতিক) ১৪৮ ভোট।

সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে শুরু থেকেই ছিল নানা ধরনের বিতর্ক। এ পৌরসভাতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এটি ফজলে রাব্বি যিনি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন সোনারগাঁয়ের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমানের পক্ষে নেপথ্যে কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা যাঁরা গত ১৭ অক্টোবর সাদেকুর রহমানের হাতে আমিনপুরে এক সমাবেশে ফুলের নৌকা তুলে দেন।

সে হিসেবে সোনারগাঁয়ে বিএনপির প্রার্থী করা হয় উপজেলা যুব দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেনকে। এসব নিয়ে শুরুতে বিতর্ক থাকলেও শেষতক ব্যালটে জনগণ সেই জবাব দিয়েছে। এছাড়া এ বছরের জানুয়ারীর শুরু।

কারণ বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমের যে “ওরা ১১জন’’ সিন্ডিকেট ছিল তাদের একজন হচ্ছেন মোশারফ হোসেন। তাই স্থানীয় বিএনপিতেই তাকে নিয়ে অর্ন্তদ্বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া মোশারফ হেসেনের বড় ভাই মো. মনির হোসেন সাবেক আমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সহ সোনারগাঁও পৌরসভায় একাধিক বার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন। এ পরিবার থেকে নির্বাচনে সফলতার কোন ইতিহাস নেই তাই মোশারফ হোসেনের মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদেও মধ্যে বেশ ধুরজালের সৃষ্টি হয়।

ফল এসেছে জগ প্রতীকের আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান ভূইয়া। ৯টি কেন্দ্রে প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন মোট ৯ হাজার ৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৫ ভোট। অপরদিকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী মোশারফ হোসেন তৃতীয় হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৮৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদুল আজাদ পেয়েছেন (নারিকেল প্রতিক) ১৪৮ ভোট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের শুরুতেই সৃষ্টি হয় নতুন বিতর্ক ‘রাজাকার পুত্র’ বনাম বিএনপি জামায়াতের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এটি ফজলে রাব্বিকে নিজ দলেরই একটি পক্ষ উপাধি দিয়েছে ‘রাজাকার পুত্র’। অপরদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ বর্তমান মেয়রকে বিএনপি জামায়াতের অনুসারী উপাধি দেয় আওয়ামীলীগেরই অপর একটি অংশ।
জানা গেছে, সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনটি শুরু থেকেই ক্ষমতাসীনদের প্রেস্টিজ ইস্যুতে পরিণত হয়। নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে ক্ষমতাসীন চার এমপির মধ্যে ছিল স্নায়ুযুদ্ধ।

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বি ও বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমান। অ্যাডভোকেট রাব্বি নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর ভগ্নিপতি। এছাড়া রাব্বির পক্ষে শুরু থেকেই ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত। অপরদিকে বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমানের পক্ষে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামীলীগের এক নম্বর সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের এমপি ও জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন যুদ্ধে জয়লাভ করেন অ্যাডভোকেট এটি ফজলে রাব্বি।

দলীয় সূত্র জানায়, শুরুতে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড বর্তমান মেয়র সাদেকুর রহমানকে পছন্দ করলেও সাদেকুর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। যে কারণে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড তার বদলে অ্যাডভোকেট রাব্বিকে মনোনয়ন দেয়। রাব্বির পক্ষের নেতারা এই ইস্যুটিকে কাজে লাগিয়ে রাব্বির পক্ষে মনোনয়ন বাগিয়ে আনেন। প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকে সোনারগাঁয়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ওইদিন একটি জাতীয় দৈনিকে সোনারগাঁ পৌর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে মোঃ মাসুম বিল্লাহ নামের এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি বিজ্ঞাপন দেন।

যাতে অ্যাডভোকেট রাব্বির পিতা তমিজউদ্দিনকে স্বাধীনতা বিরোধী লোক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাব্বির পিতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীকালীন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দুইজন সংগঠককে হত্যা করারও অভিযোগ করা হয়েছে। রাব্বির ভাইকে বালু সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts