September 21, 2018

‘বোমার স্প্লিন্টার শরীরে নিয়েই তাদেরকে চলতে হবে’

ঢাকাঃ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩৬ জন সদস্য আহত হন। চিকিৎসা শেষে সবাই সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু তাদের শরীরে রয়ে গেছে বোমার স্প্লিন্টার।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্প্লিন্টারগুলো খুব ছোট ছোট। অস্ত্রোপচার করে এগুলো বের করা খুবই কঠিন কাজ। তাই এগুলো শরীরে নিয়েই তাদেরকে চলতে হবে।

গুলশানে জঙ্গি হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আহত সদস্যরা হলেন গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম, এসআই ফেরদাউস আহম্মেদ বিশ্বাস, বনানী পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ইয়াসিন গাজী, কনস্টেবল কামারুজ্জামান, বনানী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল আলমগীর হোসেন, কনস্টেবল প্রদীপ চন্দ্র দাস, গাড়িচালক আবদুর রাজ্জাক ও জিয়াউর রহমান, ব্যাটালিয়ন আনসার মেজবাউল, এএসআই বিল্লাল ভুঁইয়া, ডিএমপি হেড কোয়ার্টার্সের কনস্টেবল সোহাগ খান, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ওবায়দুল হক, এসআই কবির হোসেন, এএসআই নুর ইসলাম, কনস্টেবল মাহফুজুর রহমান, কনস্টেবল জাকির হোসেন, কনস্টেবল আনারুল ইসলাম, ডিবির এএসআই মতিউর রহমান, মহাখালী পুলিশ বক্সের এসআই মাহবুব আলম, সোয়াত টিমের এসআই সুজন কুমার, এএসআই নুর জামাল, নায়েক আক্তারুজ্জামান, কনস্টেবল সজিব, কনস্টেবল মাসুদ রানা, গুলশান থানার এসআই খালিদুর রহমান, এসআই ফারুক হোসেন, কনস্টেবল মানিক, গুলশান ফাঁড়ির এসআই রাকিবুল ইসলাম, বনানী থানার পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান।

এদিকে শোলাকিয়ায় আহত হয়েছেন এসআই নয়ন মিয়া, কনস্টেবল জুয়েল, রফিকুল, প্রশান্ত, তুষার, মশিউর ও আসাদুল।

আহতদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সম্প্রতি বাসায় ফিরেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল আহাদ। তিনি সুস্থ হলেও তার পা ও শরীরে বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে কয়েকটি স্প্লিন্টার।

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছি। আমার শরীরে বেশকিছু স্প্লিন্টার সমস্যা রয়ে গেছে। তবে চলাফেরা করতে সমস্যা নেই। এ বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা আছে কিনা বিএসএমএমইউয়ের চিকিৎসক খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। যদি থাকে তাহলে চিকিৎসা করা হবে।’

রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের সার্জন ডা. নাদিম বলেন, ‘গুলশানে জঙ্গি হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শরীরে থাকা বোমার স্প্লিন্টার নিয়ে চলাফেরা করলে তাদের শারীরিক কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। যদি স্প্লিন্টারের কারণে শারীরিক কোন সমস্যা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়েই অস্ত্রোপচার করা হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে হলি আর্টিজান বেকারি অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এই ঘটনায় ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিনসহ ২০ জন নিহত হন। এ ছাড়া গত ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গিরা হামলা চালায়। এতে ৪ জন নিহত হন। আহত হন ৯ জন।

Related posts