November 21, 2018

বৈরুত বিমানবন্দরে চুরির অভিযোগে বাংলাদেশী গ্রেফতার

Untitled-1

বাবু সাহা,লেবাননঃ বৈরুতের রফিক আল হারিরি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে চুরির অভিযোগে এক বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী।গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশীর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরে আরো দু’জন বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।গত ১০ ডিসেম্বর রবিবার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশীদের নাম জানা যায়নি।লেবাননের বিভিন্ন মিডিয়ায় এই খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়েছে।

জানা যায়, রবিবার গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশী বিমানবন্দর দিয়ে দেশে যাওয়ার সময় লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহজনক ভাবে বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করে।পরে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে কয়েকটি হাতঘড়ি ও মোবাইল পাওয়া যায়।উদ্ধারকৃত ঘড়িগুলোর মধ্যে রোলেক্স কোম্পানীর একটি দামী ঘড়ি ছিল, যার বাজার মূল্য প্রায় ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলার।সে বিমানবন্দরের ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করতো।সে পুলিশকে জানায়, বিমান পরিস্কার করার সময় সে ঘড়িটি পায়।পরে তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে, দামী ঘড়িটি চুরি করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ঘড়ির মালিকককে সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মালামাল সহ অন্য দুইজন বাংলাদেশীকে বিচারের জন্য স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

লেবাননে বিগত কয়েক বছর যাবৎ বাংলাদেশী প্রবাসীরা হত্যা, গুম, চুরি, মাদক সহ বিভিন্ন ধরনের   অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে।গুটি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের কারনে লেবাননে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।পাশাপাশি বাংলাদেশেরও বদনাম হচ্ছে।লেবাননে বর্তমানে কাজের সংকট চরম আকার ধারনা করছে।অনেক প্রবাসী দালালদের খপ্পরে পড়ে অবৈধ হয়ে পড়ছে।প্রবাসীরা বিপথে যাওয়ার মূল কারন হচ্ছে, ভিসা সংক্রান্ত লেনদেন ও বাংলাদেশী তরুনীদের সাথে অবৈধ মেলামেশা।লেবাননে আগে বাংলাদেশী শ্রমিকদের যে সুনাম ছিল, সে সুনাম এর সূচক এখন নিম্নমূখী।এসব অপরাধের কারনে বৈধ বাংলাদেশীদের আকামা পেতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।আগে আকামা পেতে সময় লাগতো দুই সপ্তাহ।এখন ৬/৭ মাস অপেক্ষা করেও আকামা হাতে পাচ্ছে না।লেবাননে বাংলাদেশের পাশাপাশি ইন্ডিয়া, শ্রীলংকা, ইথিওপিয়া, ফিলিপিন এর শ্রমিক থাকলেও একমাত্র বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে আকামার সমস্যা হচ্ছে। আকামা এখন বাংলাদেশীদের কাছে সোনার হরিণ।লেবাননে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যদি নিজেকে এসব অপরাধ মূলক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের বিরত না রাখে, তাহলে অচিরেই বাংলাদেশীদের শ্রমবাজার এদেশে চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি মনে করছেন।বৈরুত দূতাবাস স্বল্প জনবল নিয়েও প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে সচেতন করার জন্য প্রতি মাসেই কমিউনিটির সাথে আলোচনা করে যাচ্ছেন।রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।এসব বিপথগামী প্রবাসী বাংলাদেশীদের কারণে একদিকে যেমন দেশের ভাবমূর্তি নস্ট হচেছ, অন্যদিকে বৈরত দূতাবাসকেও স্থানীয় প্রশাসনের নিকট বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছেে।এ ব্যাপারে অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বৈরুত দূতাবাস এর প্রতি আহব্বান জানিয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি।

Related posts