March 19, 2019

বেড়েছে বিভাগ-শিক্ষার্থী, বাড়েনি শ্রেণীকক্ষ-হল ও পরিবহন

RU

ইমদাদুল হক সোহাগ, রাবি: রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে যে হারে নতুন বিভাগ এবং শিক্ষার্থী বেড়েছে সে হারে শ্রেণীকক্ষ, আবাসিক হল এবং পরিবহন বাড়েনি। এতে করে প্রতিনিয়তই সমস্যার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছে বিশ^বিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর। এসব শিক্ষার্থীদের দাবি নতুন করে একাডেমিক ভবন, আবসিক হল এবং পরিবহন বৃদ্ধি করা হোক। তবে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হচ্ছে, যেহেতু এ বছর নতুন বিভাগ খুলা হয়েছে সেক্ষেত্রে একটু সমস্যা হবে। তবে অল্পকিছু দিনের মধ্যে ভবন ও হল তৈরী করা হবে।
বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর অর্থাৎ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ৮টি নতুন ও বিভাগ ও অনুষদে বিশেষ কোটাসহ মোট ৩০৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। বিভাগ গুলোর মধ্যে আইন অনুষদের অধীনে ‘ল এন্ড ল্যান্ড এ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (৫০), বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ‘শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান’ (৩০), বানিজ্য অনুষদের অধীনে ‘আইবিএ’র অনার্স (৫০), জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ‘চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান’ (২৫), চারুকলা অনুষদের অধীনে ‘চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র’ (৪৫), ‘মৎশিল্প ও ভাস্কযর্’ (৩০), ‘গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস’ (৪৫)। এর আগের বছর বিজনেস অনুষদের অধীনে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স (৫৬) এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক (৩৪) মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।
বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কলা অনুষদের অধীনে চারুকলা বিভাগ পৃথক হয়ে ২০১৫ সালে অনুষদ গঠিত হয়। এ বছর চারুকলা অনুষদের অধীনে ৩টি নতুন বিষয়ে ১২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়েছে। এ অনুষদের ৩টি বিভাগের একটি মাত্র অফিস কক্ষ। বিভাগের সভাপতির কোন নিজেস্ব অফিস নেই। গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘তিনটি বিভাগের জন্য একটি মাত্র অফিস। এতে করে অনেক সময় অফিসিয়াল কাজ করতে সমস্যা হয়। এ অনুষদের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি বাসের প্রয়োজন। তিনি শিল্পকর্ম ও ভাস্কর্য সংরক্ষনের জন্য জরুরী ভিত্তিতে প্রাচীর সংরক্ষণ এবং পৃথক পৃথক অফিস, চেম্বার ও ক্লাশরুমের জন্য চারুকলা অনুষদের বিল্ডিংটি সম্পূর্ণ করার জন্য বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে শারীরিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিভাগের উপ-পরিচালক বলেন, নতুন বিভাগ হিসেবে কিছু সমস্যা থাকবে। তবে এ বিভাগের জন্য একটি শ্রেণী কক্ষ আছে। নতুন বিভাগের জন্য আলাদা করে কোন ভবন তৈরী করা হয়নি। এসব শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করতে হয় অন্য বিভাগের ক্লাশে। প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ শুভ বলেন, নতুন বিভাগ হিসেবে ক্লাশের কিছু সমস্যা আছে। নতুন আরো কয়েকটি কক্ষ হলে আমাদের ভাল হতো।
বিশ^বিদ্যালয়ের মোট এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে অবস্থান করে। ছাত্রদের জন্য ১১টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৬টি হল রয়েছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও আবাসিকতা বাড়ছে না। আবার ছাত্রদের হলগুলোতে রয়েছে রাজনৈতিক সমস্যা। হলের সিটগুলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে দখলে রয়েছে।
বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৩৮টি বাসের মধ্যে ২৬ টি বাস বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। ৪টি বাস মেরামত করা হচ্ছে এবং ৮টি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বর্তমানে ৩৩ জন ড্রাইভার, ২৪ জন হেলপার ও ২৪ জন কনট্রাক্টর রয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের একটা বড় অংশ ক্যাম্পাসের বাইরে শহরে বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়ীতে অবস্থান করে। একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পাসে যাতায়াতের সময় বাসে গাদাগাদি করে যেতে হয়। অনেক সময় ঝুলেও যেতে হয় যা জীবনের জন্য ঝুকিপূর্ণ। অকেজো বাসগুলো মেরামত ও নতুন বাসের জন্য দাবি জানান। এদিকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীরা পরিবহনে ধরণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ছাত্রী বহন করার প্রতিবাদে পরিবহন অবরোধ করে।
পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ড. মাইনুল হক জানান, ড্রাইভার এবং হেলপারের সংখ্যা কম থাকায় মাঝে মাঝে কিছুটা সমস্যা দেখা দেয়। ৪টি বাস আছে যেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। সেগুলো ঠিক হলে অনেকটা সমস্যা দূর হবে। আগামী মার্চ কিংবা এপ্রিল মাসে একটি বাস প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা এবং একাডেমিক ভবনের কথা চিন্তা করে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য দু’টি হল এবং একাডেমিক ভবন তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে হবে বলে জানান তিনি। পরিবহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা থাকায় মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। অল্পদিনের মধ্যে নতুন একটি বাস নেওয়া হবে জানান তিনি।
বর্তমানে বিশ^বিদ্যালয়ের ১০টি অনুষদ ও ৫৬ বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩,০০০ জন এবং শিক্ষক রয়েছেন ১,২৩০ জন।

Related posts