September 26, 2018

বেসরকারি কলেজ ভবন নির্মাণে দুর্নীতি

31

৪৬২টি কলেজের পেছনে ব্যয় ১৫৯ কোটি টাকা * নিম্নমানের কাজে গচ্চা যেতে বসেছে পুরোটাই
দেশের ৪৬২টি বেসরকারি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। এসব ভবন নির্মাণে আরসিসি ফাউন্ডেশন দেয়া হয়নি। নিচু ও ডোবা জায়গায় এভাবে ভবন নির্মাণ করায় এখন তা দেবে যেতে শুরু করেছে। এর ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে এসব কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জীবন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদফতর ২০০৪ সালে ১৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নির্বাচিত বেসরকারি কলেজসমূহে একাডেমিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৫ বছরে দেশব্যাপী ৪৬২টি কলেজে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়।

প্রতিবেদনে ১১৫টি কলেজকে নমুনা হিসেবে ধরে নেয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মিত ভবনগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে উদ্যোগ না নিলে দ্রুত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আরসিসি ফাউন্ডেশনের পরিবর্তে ভবনগুলোতে ইটের ফাউন্ডেশন দেয়া হয়েছে। ফলে নিচু ও ডোবা জায়গায় নির্মিত ভবন দেবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এক্ষেত্রে ভবন নির্মাণের স্থানও সঠিকভাবে নির্বাচন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্মিত কলেজগুলোর ভবনের দেয়াল, দরজা-জানালা, বাথরুম, ফ্লোর, ব্ল্যাকবোর্ড, বৈদ্যুতিক সংযোগ ইত্যাদি মানসম্মত না হওয়ায় নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যেই এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন নির্মিত শ্রেণী কক্ষগুলো শতভাগ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডি সচিব শহিদ উল্লা খন্দকার বৃহস্পতিবার বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিবেদনে যেসব তথ্য উঠে এসেছে তা শতভাগ সত্য। প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন হচ্ছে ‘সচিত্র প্রতিবেদন’। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা গিয়ে এসব খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। এ জন্য যে সমস্যা বা সুপারিশ দেয়া হয় তা বাস্তবসম্মত। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এসব তথ্য অবহিত করি এবং ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেই। অনেক সময় কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সেটা জানানোরও অনুরোধ করি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্মিত কলেজ ভবনগুলোর মধ্যে ৩৫.৬৫ শতাংশের দেয়ালের প্লাস্টার উঠে গেছে। ৪৩.৮৪ শতাংশ ভবনের ফ্লোর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গেছে, ৪১.৭৮ শতাংশের দরজা ভেঙে পড়েছে, জানালা ভেঙে পড়েছে ৪২.৬১ শতাংশ ভবনের। এছাড়া ৪৮.৭০ শতাংশ টয়লেটের ফিটিংস ও দরজা ভেঙে পড়েছে, ৩২ শতাংশ শ্রেণীকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) আবদুল মান্নান বলেন, আইএমইডির যে কোনো প্রতিবেদন আমরা আমলে নিয়ে থাকি। অবকাঠামোগত বা নির্মাণকাজে কোনো খারাপ রিপোর্ট এলে সেটি সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এই প্রকল্পের বিষয়ে যে প্রতিবেদনের কথা বলা হচ্ছে তা এখনও হাতে আসেনি। আসার পর অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দেয়া হবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দেশে মোট ৩ হাজার ৫০০টি বেসরকারি ও ২৯৫টি সরকারি কলেজ রয়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরের হিসাব অনুসারে, কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করা অধিকাংশ শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীতে অবকাঠামোগত অসুবিধার কারণে ভর্তি হতে পারছে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় বেসরকারি কলেজগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষাঙ্গন তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি কলেজে ১৮০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগসহ উন্নত শিক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় বলে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদফতর জানিয়েছে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে রাজস্ব খাত থেকে নতুন করে কলেজ ভবনগুলোর সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে। আইএমইডি বলছে, ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাডেমিক ভবন নির্মাণে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবনগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ, ভবন নির্মাণে নিুমানের সামগ্রী পরিহার, মেরামত ও সংস্কারে প্রয়োজনে রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দ প্রদান এবং ইটের পরিবর্তে আরসিসি ফাউন্ডেশন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts