September 23, 2018

বৃষ্টি-ঝড়-তুফানের সাথে যুদ্ধ করে অনেকটা ক্লান্ত বিধবা ছায়া বেগম

10288763_1084998354884816_7325784504026786571_nমোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথের হাওর এলাকায় বসবাসকারী একজন ছায়া বেগম প্রতি বৎসর বৃষ্টি, ঝড় আর তুফানের সাথে যুদ্ধ করে আজ অনেকটা ক্লান্ত। অথচ প্রবাসী অধ্যুষিত এই বিশ্বনাথে কেবল লোকজন থাকার অভাবে কত দামী দামী সুরম্য অট্টালিকা আজ পড়ে আছে বছরের পর বছর ।

কিন্তু ছায়া বেগমের শত কষ্টে গড়ে তোলা কুঁড়ে ঘরটিতে এখনই মাত্র ৫ বান টিন না লাগালে আগামী বর্ষা মৌসুমে তাকে হয়ত ৭ সদস্য পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে। এ অবস্থায় দেশের ও প্রবাসের কোন হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান যদি এগিয়ে আসেন তাহলে হয়ত এই পরিবারটিকে আর খোলা আকাশের নীচে বাস করতে হবে না ।

জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের শমশের আলী মৃত্যু করলে ভাগ্য বিড়ম্বনায় পড়েন তার স্ত্রী ছায়া বেগম (৫৮)। ১ ছেলে ও ৫ মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়ী থেকে বিতাড়িত হয় পরের বাড়ীতে আশ্রয় নেন।

এভাবে কাটে অনেকগুলো দিন। অবশেষে একই ইউনিয়নের আগনশাসন গ্রামের বর্তমানে মৃত মুহিবুর রহমান মহৎ হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে এই অসহায় পরিবারকে নিজের অর্থে রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর হাওরে ২ শতক জায়গা ক্রয় করে দেন।

বিধবা মা ছায়া বেগম ও তখনকার কিশোর পুত্র হাবিব (১৮) পরের বাড়ীতে ও জমিতে কাজ করে মা ও ছেলে ছন,বাঁশ ও পালা দিয়ে কোন মতে একটি কুঁড়ে ঘর তৈরী করেন। প্রতিনিয়ত ভাগ্য বিড়ম্বনার শিকার ছায়া বেগম দ্রারিদ্রতার সাথে কঠিন লড়াই করে তিনটি মেয়েকে বিবাহ দিলেও ২ জন স্বামী হারা হয়ে অনেকটা নিরুপায় হয়ে ফিরে আসে আবার মায়ের কাছে ।

এর মধ্যে ছায়া বেগমের এক মেয়ে রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে । বর্তমানে সেই পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৭ জন । তরুন হাবিব মা আর বোনদেরকে যেমন বুঝা মনে করে ছেড়ে যায় নি । ঠিক তেমনী সেই সংগ্রামী মা স্বামী হারা মেয়েদেরকেও বুঝা মনে করে দূরে টেলে দেননি ।

বরং শত অভাবের মাঝেও সেই পরিবারটি মিলেমিশে থাকার মাঝে সত্যিকার আনন্দ খুঁজে পেয়েছে । নিঃসন্দেহে আমাদের সমাজের দ্ররিদ্র পরিবারগুলোর জন্য বিধবা ছায়া বেগম ও তরুন হাবিব অনুপ্রেরণার এক রোল মডেল । স্যালুট সেই মা জননী ও তার পুত্রকে । ছায়া বেগমের বাড়ীটি হাওর এলাকায় হওয়ায় বৃষ্টি, ঝড় ও তুফান তাদেরকে অন্যদের তুলনায় একটু বেশী মোকাবিলা করতে হয় ।

যার কারণে প্রতিবৎসরই তাদেরকে কুঁড়ে ঘরটির ছনের বেড়া পাল্টাতে হয়। ঝড় ও তুফানে টিনের নাজুক অবস্থা হলেও দ্রারিদ্রতার যুদ্ধে ক্লান্ত ছায়া বেগমের পক্ষে আর্থিক দৈন্যতার কারণে কখনো টিন পাল্টানো সম্ভব হয়নি। যার কারণে প্রতিবৎসরের বর্ষা মৌসুমে তাদেরকে অনেকটা বাধ্য হয়ে বৃষ্টি, ঝড় আর তুফানের সাথে লড়াই করতে হয়। কিন্তু টিন ও ঘরের খুঁটি গুলোর অবস্থা খুবই নাজুক হওয়ায় সম্প্রতি ঘরটি ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয় ।

তাই নিরুপায় হয়ে পুরাতন ঘর ভেঙ্গে মা, ছেলে ও মেয়েরা মিলে শত কষ্ট করে বর্তমান এই ঘরটি তৈরী করেন । কিন্তু এখনো লাগানো হয়নি প্রয়োজনীয় ৫ বান চালের টিন।  কিংবা ছনের বেড়া ।

এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীরা যদি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন তাহলে হয়তো একটি পরিবারের মাথা গোজার জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হবে।

Related posts