September 22, 2018

‘বুরকিনি’ নিষিদ্ধ করায় ফ্রান্সের রাজনীতিতে ঝড় বইছে

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ মুসলিম নারীদের শরীর আবৃত করা বিশেষ ধরনের সাঁতারের পোশাক ‘বুরকিনি’ নিষিদ্ধ করায় ফ্রান্সের রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য প্রসিদ্ধ কান শহরে বুরকিনি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মারসেইলিতে। এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন লেস পেনেস-মিরাবুর মেয়র সামিয়া ঘালি। তিনি নিজেও একজন মুসলিম। অনলাইন ফ্রান্স ২৪ আজ রবিবার এ নিয়ে তাদের খবরের শিরোনাম করেছে ‘ফ্রেঞ্চ বুরকিনি পার্টি ব্যান স্পার্কস পলিটিক্যাল স্টর্ম’। এতে রাজনৈতিক পর্যায়ে ওই বিরোধিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ফ্রান্স ২৪ লিখেছে, এ পদক্ষেপের ফলে ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্মাইল ১৩ নামে মুসলিমদের একটি গ্রুপ মারসেইলিতে একটি ওয়াটার পার্কে নারীদের জন্য একটি পার্টির পরিকল্পনা করেছিল। বলা হয়েছিল, ওই পার্টিতে যারা যাবেন তাদের পুরো শরীর কাপড়ে ঢাকা থাকতে হবে।

এ ধরনের পোশাককে বলা হয় বুরকিনি। এ পোশাক পরলে শুধু হাত বাইরে থাকে। মাথা সহ পুরো শরীর ঢাকা থাকে। ওই অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল ১০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু স্থানীয় সরকার তা নিষিদ্ধ করেছে। স্থানীয় বামপন্থি মেয়র মাইকেল আমিয়েল বলেছেন, এ ধরনের পার্টি জন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি। আমি মনে করি এ পার্টি এক ধরনের প্ররোচণা। এর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। এ ধরণের অনুষ্ঠান বিভক্তি সৃষ্টি করে। ডেপুটি মেয়র ডোমিনিক বুসি বলেছেন, ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের জন্য একটি হুমকি হলো বুরকিনি। নারী ও পুরুষের মধ্যে যে সমতা আছে, তা লঙ্ঘন করে এই পোশাক। তবে স্থানীয় সব রাজনৈতিক নেতারা এ যুক্তির সঙ্গে একমত নন। কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগের নিন্দা জানিয়েছেন সামিয়া ঘালির মতো বেশ কিছু রাজনীতিক। উল্লেখ্য, সামিয়া ঘালি নিজে একজন মুসলিম ও মেয়র।

তিনি বলেছেন, যেখানে ওই পার্টি আয়োজনের কথা ছিল সেটা একটি প্রাইভেট জায়গা। পার্টির আয়োজন ছিল সেখানকার মালিক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যকার প্রাইভেট বিষয়। একটি প্রাইভেট জায়গা ভাড়া নেওয়া কোন আইন বিরুদ্ধ নয়। শরীর ঢেকে সাঁতার কাটা আইন বিরুদ্ধ নয়। জনশৃংখলার জন্য হুমকি নয়, এমন একটি ইভেন্ট কি করে নিষিদ্ধ করা হয় তা আমি বুঝতে পারি না। কেউ কেউ বলছেন, নারী-পুরুষ সবার পোশাকের স্বাধীনতা থাকা উচিত। তবে অবশ্যই সেটা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন নয়। নগ্নতা সমাজে সমস্যা তৈরি করতে পারে, কিন্তু শরীর ঢাকা পোশাক তো কোন ক্ষতি করে না। এমন পোশাকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অর্থ নারী স্বাধীনতার ওপর পুরুষতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে নারীবাদিদের উচিত এর প্রতিবাদ করা। উল্লেখ্য, মারসেইলি শহরে প্রায় দুই লাখ মুসলিম আছেন। সেখানে নারীরা বুরকিনি পরে হাঁটছেন এমন দৃশ্য খুবই চোখে পড়ে। এমনই একজন নারী নিসরিন সামালি।

তিনি পেশাগত জীবনে একজন শিক্ষিকা। তিনিও বুরকিনি নিষিদ্ধ করার জন্য ক্ষোভ ঝেড়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, ওয়াটার স্পোর্টসে কেন ইসলামিক পোশাক পরতে গিয়ে কে কী ভাবলো সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে, এটা আমি বুঝতে পারি না। এর চেয়ে মানুষগুলো যদি আরও মুক্তমনা হয় সেটাইতো বেশি ভাল।

Related posts