November 18, 2018

বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

fঢাকা::বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী গত মঙ্গলবার পৃথক বাণীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়সহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকে এ দেশের সকল ধর্মের মানুষ তাদের নিজ নিজ ধর্ম ও আচার অনুষ্ঠানাদি অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করে আসছে। এটা বাংলাদেশের সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ঐতিহ্য।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজো সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রাচীনকাল থেকে বাংলার জনপদের সাথে বৌদ্ধ সভ্যতার ইতিহাস ও কৃষ্টি গভীরভাবে মিশে আছে। পাহাড়পুর ও ময়নামতি শালবন বিহার তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে বাণীতে বলেছেন, শান্তি ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ গঠনই ছিল গৌতম বুদ্ধের একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘ভয়, ক্রোধ ও লোভ লালসাকে পরিহার করে গৌতম বুদ্ধ সারাজীবন মানুষের কল্যাণে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অহিংস, মৈত্রী ও করুণার বাণী প্রচার করেছেন। বর্তমান বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গৌতম বুদ্ধের জীবনাদর্শ ও শিক্ষা অনুসরণ করা একান্ত প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমান কাল থেকে এ দেশে প্রত্যেক ধর্মের লোক উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে। বিভিন্ন ধর্মের অনুসারিগণ পাশাপাশি বসবাস করে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।

তিনি বলেন, হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণও বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডে সমানভাবে অংশ গ্রহণ করে আসছেন।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় মহামানব বুদ্ধের সাম্য ও মৈত্রীর বাণী এবং তার আদর্শ ধারণ ও লালন করে জ্ঞান, মেধা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দেশ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Related posts