September 19, 2018

বিশ্বনাথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মানাধীন ভবনের নিম্নমানের গ্রীল অবশেষে খোলা হচ্ছে

IMG_20171108_152234_398মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মানাধীন নতুন ভবনে লাগানো নিম্নমানের গ্রীলগুলো অবশেষে খুলে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্মানাধীন নতুন ভবনে পূর্বের লাগানো নিম্নমানের গ্রীল খুলে নতুন গ্রীল লাগানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তদারকিতে সিলেটের বিশ্বনাথে প্রায় ১১ কোটি ৩০লাখ টাকা ব্যয়ে চলমান উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে অনিয়মের কথা ইতিপূর্বে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম।
অনিক ট্রেডিং করপোরেশন নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে কাজ শুরু হয়। আগামী জুনে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। প্রায় ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। অভিযোগে উঠে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নির্মান কাজে নিম্নমানের পাথর, পাইলিং ভাঙ্গা ডাস্ট, জানালায় নিম্নমানের এঙ্গেল ব্যবহার ও চালনি না দিয়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে । প্রকল্পের কাজে পাথর বা ইটের খোঁয়া দিয়ে নির্মান কাজ করার কথা থাকলেও টিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন পুরাতন বিল্ডিং-এর পাইলিংয়ের ডাস্ট (ব্যবহৃত নি¤œমানের পাথর) দিয়ে কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের ছাদ ঢালাই’সহ পিলার নির্মানের কাজ করছে। তাও যে পাথর মাটি ও ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। তা সত্যেও চালনি না দিয়ে চলে কাজ। ফিলারের রডের সাথে বাঁধা রিং-এর দূরত্ব প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি পর পর হওয়ার কথা থাকলেও সেই রিংগুলো দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৪-১৬ ইঞ্চি পর পর। কাঁচের জানালায় ব্যবহৃত গ্রীলের এঙ্গেল ৩ এমএম’র পরিবর্তে দেড় এমএম ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন জানালার মাপেও দেখা গেছে প্রায় ১ ইঞ্চি করে কম।
নির্মান কাজে এলাকাবাসীর কাছ থেকে পাওয়া অনিয়ন-দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে চলমান কাজ পরিদর্শন করেন স্থানীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। সেদিন (২৬অক্টোবর) তিনি প্রকল্পের চলমান নির্মান কাজে অনিয়ম হাতে নাতে ধরেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলীর সাথে তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোনে কথা বলেন এবং শনিবার (২৮অক্টোবর) তাদের সাথে নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। এসময় এমপি ডাস্ট দিয়ে যেসকল কাজ চলমান তা বন্ধ রেখে অন্যান্য কাজ করার জন্য নির্মাণকাজে নিয়োজিত সাইট ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন মন্ডলকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্ত শনিবার বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নূর উদ্দিন, বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, সিলেট থেকে আসা ইঞ্জিনিয়ার ছদরুল ইসলাম, বিশ্বনাথের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ও সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে সরেজমিন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন এমপি ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া। ওই দিন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপস্থিত হননি স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার। এসময় পুরাতন পিলারের ডাস্ট (নিম্নমানের পাথর) ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে সাইট ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জন মন্ডল বলেন, উর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষের অনুমতি স্বাপেক্ষে তিনি দুটি ভবনের ভিটার পাকায় এগুলো ব্যবহার করেছেন। আর জানালায় ব্যবহৃত ষ্টিলের এঙ্গেলে কিছুটা ব্যতিক্রম রয়েছে। অন্যদিকে এমপি এহিয়া চৌধুরী বিরুদ্ধে কাজের টিকাদারের কাছে ৩০লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠে।
গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং কাজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে নির্মাণ কাজ পরিদর্শণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী।পরিদর্শণকালে তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সত্ত্বাধিকারী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এহিয়া চৌধুরীর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় জানালায় ব্যবহৃত নিম্নমানের প্রেইম খুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বিল্ডিং পাইলিংয়ের পুরাতন ভাঙ্গা ডাষ্ট দিয়ে ভবনের যে দুটি ফ্লরে কাজ করা হয়েছে তা ভেঙ্গে নতুন করে কাজ করার এবং পুরাতন ভাঙ্গা ডাষ্ট দিয়ে কাজ না করার নির্দেশও দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

Related posts