December 12, 2018

বিশ্বনাথ আওয়ামী লীগের সাজানো বাগান রক্ষার দাবি তৃণমূলের

78888-1মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ::দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের শনিরদশা কাটছে না। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে থাকা বিভক্তি ১১ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে এসে আবারও ভর করেছে বিশ্বনাথের রাজনীতির মাঠে। ১০ম নির্বাচনের পূর্বে ওই বিরোধ না থাকলেও এআসন জাতীয় স্বার্থে ছাড় দিতে হয় জাতীয় পার্টিকে। দলীয় বিভক্তি চলমান থাকলে আগামী নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কিংবা মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হওয়া নিয়েও দেখা দিতে পারে আশংঙ্কা।

২০১৫ সালের ৮ জুন অনুষ্ঠিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কন্ঠভোটে আলহাজ্ব পংকি খান সভাপতি ও বাবুল আখতার পুনঃরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সম্মেলনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও সু-সংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন তারা। পংকি-বাবুল’র নেতৃত্বে উপজেলা ও ৮ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও ১৫ আগস্ট পালনের লক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে পংকি-বাবুল’র বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিলেন পদবঞ্চিত নেতারা। এদিকে চলতি বছরের ৮ জুন পবিত্র উমরা হজ্ব পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন বাবুল আখতার। বাবুল আখতারের মৃত্যুর পর পংকি খানকে আটকানোর জন্য পূর্বের চেয়ে আরো বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেন সেই পদবঞ্চিত নেতারা।

এদিকে বাবুল আখতারের মৃত্যুর পর দলের সভাপতির পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও নিজের কাঁধে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলার ৭২টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগকে সু-সংগঠিত রাখতে একাই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন আলহাজ্ব পংকি খান। তাঁর নেতৃত্ব এবছর উপজেলা ও ৮ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও ১৫ আগস্ট পালনের লক্ষে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাবুল আখতারের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রে পংকি খানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগে আনেন।

সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নির্দেশে গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে স্থগিত করা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণ্যাঙ্গ কমিটি অনুমোদন প্রক্রিয়া। আর ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ‘জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের’ বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব পংকি খানের নেতৃত্বে যৌথ উদ্যোগে স্মরণকালের সবচেয়ে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে উপজেলা যুবলীগ-ছাত্রলীগ। ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু, বিশ্বনাথের মাটি শফিক চৌধুরীর ঘাঁটি, বিশ্বনাথের মাটি পংকি খানের ঘাঁটি’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় বিশ্বনাথে। ওই সভায় বিশ্বনাথের রাজনীতিতে ‘পংকি-বাবুল’ প্যানেলের সাজানো বাগান রক্ষার দাবি করে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তৃণমূল আওয়ামী লীগের (উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) নেতাকর্মীরা বলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০০৯ সালের ৭ ডিসেম্বর রেজুলেশন করে আওয়ামী লীগে পংকি খানকে যোগদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বের পংকি খান আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০১১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পংকি খানকে উপজেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়। ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারী পংকি খানকে ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে’ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য’সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পংকি খানকে বিজয়ী করতে তাঁর পক্ষে ভোটও চান। বিগত সময়ে পংকি খানের পক্ষে থাকা অনেক নেতাই ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য ২০১৭ সালে এসে তার (পংকি) বিরুধীতা করছেন। তবে এতদিন ওই সকল ত্যাগী নামধারী নেতারা কোথায় ছিলেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ্বনাথ উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘পংকি-বাবুল’র সাজানো বাগান রক্ষার দাবি তৃণমূল আওয়ামী লীগের।

উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ছুরাব আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল হান্নান বদরুল এবং উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হাজী আমির আলী ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, মজম্মিল আলী-বাবুল আখতারের নেতৃত্বে উপজেলার ৮ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও পূর্ণ্যাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়ে ছিল। অথচ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে কন্ঠভোটে তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কন্ঠভোটে সভাপতি পদে আলহাজ্ব পংকি খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে বাবুল আখতার’কে নির্বাচিত করে ছিলেন। এতেই প্রমাণিত হয় দলের স্বার্থে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে ‘পংকি-বাবুল’ প্যানেলের নেতৃত্ব কতটুকু গূরুত্বপূর্ণ বার্তা বয়ে আনে।

উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মকদ্দছ আলী ও যুগ্ম আহবায়ক আলতাব হোসেন বলেন, মজম্মিল আলী-বাবুল আখতারের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও ২০১১ সালের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করে সবকটিতে পরাজিত হয়ে ছিলেন। অথচ এর পূর্বের নির্বাচনে বিএনপি সরকারের আমলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৪টি ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। আর পংকি খান-বাবুল আখতারের নেতৃত্বে ২০১৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করে ২টিতে বিজয়ী হন। এনির্বাচনে ২টি ইউনিয়নে বিএনপির ও ২টি ইউনিয়নে সতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। এতেই প্রমানিত হয় বিশ্বনাথের রাজনীতিতে পংকি খানের প্রয়োজন কতটুকু।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ২০১২ সালে বিশ্বনাথে ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবির নামে বিএনপি-জামায়াত যে তান্ডবলীলা করে ছিল তা প্রতিহত করতে উপজেলা সদরে যে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার অবস্থান ছিল তার মধ্যে পংকি খান ছিলেন অন্যতম। যে কারণে পরবর্তিতে বিএনপির পক্ষ থেকে মামলার জন্য থানায় দায়ের করা ৪টি অভিযোগপত্রের প্রত্যেকটিতে শীর্ষ দিকে নাম ছিল পংকি খানের। অথচ অনেকেই আজ নিজেকে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন, যাদের নাম সেই ৪টি অভিযোগের একটিতেও নেই। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জীবনে কখনও নৌকায় ভোট দেন নি। বরং নৌকার বিজয়ের বিরুধীতা করেছেন। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও এর একটি উজ্জ্বল দৃষ্ঠান্ত।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শীতল বৈদ্য ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক শাহ বোরহান আহমদ রুবেল বলেন, আলহাজ্ব পংকি খানের নেতৃত্বে বিশ্বনাথে যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের রাজনীতি সু-সংগঠিত হয়েছে তা নয়, উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনও সু-সংগঠিত হয়েছে। যে কারণে চলতি বছরের সিলেটের সবকটি উপজেলাকে পেছনে ফেলে ১৭ বছর পর জেলা প্রশাসক কাপে বিশ্বনাথ উপজেলা আবারও চ্যাম্পিয়ন ও কাবাডিতে রানার্স আপ হয়েছে। পংকি খানের নেতৃত্বের গুনাবলীতেই তা সম্ভব হয়েছে।

 

Related posts