September 20, 2018

বিশ্বনাথে ৭ গবাদী পশুর মৃত্যু, ডাক্তারকে দুষছেন কৃষক!

received_1383178421819341বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে এক কৃষকের ৭টি গরু আকস্মিকভাবে মারা গেছে। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের চড়চন্ডি গ্রামের মস্তাব আলীর ব্যক্তিগত খামারে এ ঘটনাটি ঘটে। এতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন উল্লেখ করে কৃষক মস্তাব এর জন্যে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীকে দায়ী করেন। তবে, ‘ডাক্তারের খামখেয়ালীর অভিযোগ’ সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বিশ্বনাথ উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, স্থানীয় চড়চন্ডি গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী সুফু মিয়ার বাড়ীতে স্বপরিবারে বসবাস করে সেখানেই একটি ব্যক্তিগত খামারে গরু পালন করে আসছেন জগন্নাথপুরের শ্রীরামসী গ্রামের মস্তাব আলী। বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পর্যায়ক্রমে গরুগুলোকে খাবার দেয়া হলে, খামারের প্রথম সারিতে থাকা গরুগুলোর একটি একটি করে ৫টি গরু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আরও দুটি গরুর অবস্থা গুরুতর দেখে বাদবাকী গরুগুলোকে খাবার বন্ধ করে দেন কৃষক মস্তাব। সাথে সাথে যোগাযোগ করা হয় উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুশ শহিদ হোসেনের সাথে।

তার সাথে ফোনে যোগাযোগকারী মস্তাব আলীর প্রতিবেশি হারিছ আলী জানান, ডা. আবদুশ শহিদকে ফোন দিয়ে ৫টি গরুর মৃত্যু ও দুটি গরুর গুরুতর অবস্থার কথা জানালে তিনি বিষয়টি তেমন একটা আমলে না নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া গরুগুলোকে নিয়ে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে নিয়ে আসার জন্যে বলেন। এটা কিভাবে সম্ভব-প্রশ্ন করলে তিনি অফিসের ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সাদেকুল ইসলামের নাম্বার দেন। সাদেকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ‘কলে’ আছেন জানিয়ে পরে আসবেন বলে লাইন কেটে দেন। কয়েক ঘন্টা পর যখন তিনি খামারে আসেন ততক্ষণে গুরুতর অসুস্থ দুটি গরুও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
মস্তাব আলী বলেন, সময়মত ডাক্তার চলে আসলে আমার বাদবাকি গরুগুলো বাঁচানো যেত।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের ফিল্ড এসিস্ট্যান্ট সাদেকুল ইসলাম বলেন, লোকবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ে আমাদের হিমশীম খেতে হয়। চড়চন্ডি থেকে আমাকে যখন ফোন দেয়া হয়, আমি তখন মাঠের কাজে লামাকাজীর দুয়ারীগাঁওয়ে ছিলাম। খবর পেয়ে সেখান থেকে সোজা ঘটনাস্থলে চলে আসি। খাদ্যে বিষক্রিয়া থাকায় গরুগুলোর মৃত্যু হয়েছে। এখানে ডাক্তারের খামখেয়ালীর অভিযোগ অবান্তর।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুশ শহিদ হোসেন বলেন, ৫টি গরু যে আজকেই মারা গেছে, সেটা আমাকে জানানো হয়নি। বলা হয়েছে গরুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি অফিসের কাজে সিলেট শহরে থাকায় সাদেককে সেখানে যাবার জন্যে বলি।

Related posts