November 14, 2018

বিশ্বনাথে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দেওয়া হবে প্রসব সেবা

DSC_0337মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সিলেট বিভাগে সর্ব প্রথম কোন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সফল স্বাভাবিক ডেলিভারী সম্পন্নের রেকর্ড সৃষ্টিকারী বিশ্বনাথ উপজেলায় এখন থেকে ৩টি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা সাধারণ ডেলিভারী করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে দেওয়া হবে গর্ভবতি মহিলাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা। গর্ভকালীন ও প্রসব পরবর্তী সেবার গুনগত মান উন্নয়ন এবং সেবা কেন্দ্রসমূহে সপ্তাহের ৭টি ২৪ ঘন্টা প্রসব সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ ইতিমেধ্য গ্রহন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে রয়েছেন প্রশিক্ষিত সেবা প্রদানকারী। ধাত্রী বিদ্যায় প্রশিক্ষিত সেবা প্রদানকারী দ্বারা ২৪ঘন্টা নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানের ব্যবস্থা। কেন্দ্র পরিচালনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি ও ইউপি সদস্যকে সহ-সভাপতি করে ১৫ সদেস্যের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। গর্ভবতী মা, শিশু, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, কৈশোরকালীন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা গ্রহন, কেন্দ্রে ২৪ ঘন্টা প্রসবের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধকরণ এবং কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন, কেন্দ্রে সরবরাহকৃত ঔষধ, সরঞ্জাম ওউপকরণের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে উক্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি।
ইউ.ই.এস.ডি’র তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে দেশে অদক্ষ ধাত্রী দ্বারা ৪১% প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। আর শতকরা ৫৫ জন প্রসুতির ডেলিভারী বাড়িতেই হয়েছে। বাড়িতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, অনিরাপদ ও দক্ষ ধাত্রী সেবা প্রদানকারী দ্বারা প্রসব হওয়ায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা না থাকায় মাতৃ-মৃত্যু হয়। তাই নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারীর মাধ্যমে মা ও নবজাতকের মৃত্যুর হার হ্রাস করতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে সাধারণ ডেলিভারীর উদ্যোগ নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
বিশ্বনাথ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী, অলংকারী, দৌলতপুর ও দেওকলস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি তে স্বাস্থ্য সেবা ও ২৪ ঘন্টা সাধারণ ডেলিভারীর ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্ত দেওকলস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উক্ত কেন্দ্রটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রয়েছে অবকাঠামো ও জনবল সংকঠ। নির্জন এলাকায় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হওয়ায় বেড়েছে সাপের উপদ্রপ। এই কেন্দ্রে শুধুমাত্র একজন আয়া ছাড়া আর কোন কর্মকর্তা নেই। তিনিও সিলেট শহর থেকে মাঝে মধ্যে এসে কেন্দ্রের বাহিরে কিছুটা সময় কাটিয়ে যান। কেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফ.ডব্লিউ,ভি) নিলীমা রানী দাস দেওকলস ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী দশঘর ইউনিয়নে সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার ভিজিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলার বিশ্বনাথ সদর ও দশঘর ইউনিয়নে অবস্থিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য সবকিছুই রয়েছে। কিন্ত ডেলিভারীর জন্য কোন রোম না থাকায় এখানে প্রসব সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে মাল্টির্পাপাস রোমটিকে ডেলিভারী রোমে রূপান্তরিত করা যেতে পারে। তাহলে এই দুটি কেন্দ্রেও স্বাভাবিক প্রসব সেবা চালু করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সিভিল সার্জনের অনুমতির।
এছাড়া উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের নিজস্ব ভবন নেই। ইউনিয়ন পরিষদের একটি রোমে একজন পরিদর্শিকা মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করেন। অবকাঠমো না থাকায় এই ইউনিয়নে প্রসব সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

Related posts