September 25, 2018

বিশ্বনাথে সবজি বাম্পার ফলন সাফল্য পাচ্ছেন অনেক চাষি

Photoমোঃ আবুল কাশেম,বিশ্বনাথ প্রতিনিধি:: সিলেটের বিশ্বনাথে বিভিন্ন স্থানে শীতকালিন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজি চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ সবজি চাষ করতে দেখা যায়। উপজেলার তবলপুর গ্রামের আবদুল আহাদ ও শাহজিরগাঁও গ্রামের মকবুল আলীর সবজি চাষে সাফল্য চমকে দেয়ার মতো। শুধু আবদুল আহাদ ও মকবুল আলী নয় বিশ্বনাথে এ রকম অনেক সফল সবজি চাষি রয়েছেন। যাদের সাফল্যগাঁথা অন্যদের উজ্জীবিত করছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এ বছর ব্যাপকভাবে সবজি চাষ করা হয়েছে। উপজেলার ছহিফাগঞ্জ, মাধবপুর, কর্মকলাপতি, হরিপুর, রহিমপুর, তবলপুর, রামাইরচক, রামপুর, খালপার, মুছেধর, সোনাপুর, মুফতিরবাজার, তালিবপুর, হোসেনপুর, বন্দুয়া ও বাওনপুর, কারিকোনা, শাহজিরগাঁও, কাদিপুর এলাকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার একর জমিতে ব্যাপক সবজি চাষ হয়েছে। এক সময় এসব এলাকা আলু চাষের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। কিন্ত তাতে মন্দা দেখা দেয়ায় এখন তারা বিভিন্ন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। শুধু হরিপুর গ্রামের প্রায় ৫০ জন কৃষক অন্তত ১০০ একর জমিতে সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে টমেটো চাষ করা হয়েছে প্রায় ৭০ একর জমিতে। এছাড়া চাষকৃত সবজির মাঝে রয়েছে শিম, বেগুণ, আলু, ফুলকপি,

বাঁধাকপি, ওলকপি,শালগম, ফরাশ, মুলা, লালশাক ও কাঁচা মরিচ। এসমব সবজি চাষিরা প্রতিদিন উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের মুফতিরবাজার সকালে সবজি নিয়ে আসেন। বিশ্বনাথের সব চেয়ে বড় সবজির বাজার হিসেবে পরিচত মুফতিরবাজার। এ বাজার থেকে প্রতিদিন সকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সবজি রপ্তানি হয়। মুফতিরবাজার সড়কের বেহাল দশা থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহান চলাচল করে আসছে।
সবজি চাষিদের সঙ্গে আলাপকালে জানাযায়, একটি টমেটো গাছে ৩০-৩৫ টাকা খরচ হয়। আর প্রতি টমেটো গাছ থেকে পাওয়া যায় ৫-১০ কেজি টমেটো। মৌসুমের শুরুতে সবজি বিক্রি শুরু করতে পারায় খরচ পুষিয়ে গত বছরের চেয়েও বেশি টাকা আয় করা সম্ভব বলে মনে করছেন সবজি চাষিরা। চাষকৃত এসব সবজি সিলেট নগরীর বিভিন্ন আড়তে পাইকারি দরে বিক্রি হয়। অনেক সময় পাইকারি ব্যবসায়ীরা টাটকা সবজি কিনতে সরাসরি ক্ষেতে চলে যান। স্থানীয় বাজারে এ সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কীটনাশকমুক্ত ও সার কম থাকায় সিলেটের বাইরের সবজি থেকে স্থানীয় এ সবজি সুস্বাদু।
উপজেলার শাহজিরগাঁও গ্রামের মকবুল আলী জানান, পাঁচ একর জমিতে শিম চাষবাদ করতে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা। এখন প্রতিদিন এক-দেড় মণ শিম বাজারে এনে বিক্রি করেন। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি শিম বিক্রি করেছেন ৭০ টাকা করে। কিন্তু বাজারে শিমের দাম কমে যাওয়ায় রোববার প্রতি কেজি শিম ৫০ টাকা দামে বিক্রি করছেন বলে জানান। এ পর্যন্ত তিনি ২০ হাজার টাকার শিম বিক্রির করেছেন এবং আরও প্রায় চার লক্ষ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান।
হোসেনপুর গ্রামের মুস্তাক আহমদ মস্তফা বলেন, আমাদের এলাকায় প্রতি বছর প্রচুর সবজি চাষাবাদ হয়ে থাকে। প্রতিদিন স্থানীয় মুফতিরবাজার সবজি চাষিরা সবজি এনে বিক্রি করেন। তবে মুফতিরবাজার সড়কের বেহাল দশা থাকায় এলাকাবাসী চরম দূর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে।
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আলীনূর রহমান বলেন, উপজেলায় এবছর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়। প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে শীত কালিন সবজি চাষাবাদ হয়ে গেছে। এতে ভালন ফলনও হয়েছে বলে তিনি জানান।

Related posts