September 26, 2018

বিশ্বনাথে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কলমদর আলীর অভিযোগ

4.11.17বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে ‘ডাকাত ও দখলবাজদের’ ইন্ধনে পিতার তালাকপ্রাপ্ত সৎ মা কর্তৃক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্ঠা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত ‘সংবাদ সম্মেলনে’ এমন অভিযোগ এনেছেন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কাজীরগাঁও গ্রামের হাজী কলমদর আলী নামের ওই যুক্তরাজ্য প্রবাসী। চরম নিরাপত্তাহীনতায় থাকা প্রবাসী কলমদর আলী নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির রক্ষা ও চক্রান্তকারীদের দখল থেকে উদ্ধার করার জন্য ‘প্রশাসন ও সাংবাদিকদের’ ন্যায়-নীতি সঙ্গত সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী কলমদর আলী বলেন, তার পিতা প্রবাসী ওয়াহাব আলী ১৯৯৪ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে আলেয়া বেগমকে বিবাহ করেন। এরপর আলেয়াকে দেশে রেখে ওয়াহাব আলী যুক্তরাজ্যে আসা-যাওয়া করেন। এসময় আলেয়ার গর্ভে ‘শাহানারা ও ইউসুফ’ নামে দুই সন্তানের জন্ম হয়। আলেয়ার অনুরোধে আমার (কলমদর) পিতা (ওয়াহাব) তাদেরকে (শাহানারা ও ইউসুফ) যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কাজ শুরু করেন। এজন্য ডিএনএ টেস্ট করানো হলে আলেয়ার গর্ভের সন্তানদের সাথে আমার পিতার ডিএনএ মিলে নি। আত্মসম্মানের ভয়ে আমার পিতা (ওয়াহাব) দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ২০০২ সালের ১৫ আগষ্ট আলেয়াকে তালাক নোটিশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে সালিশ বোর্ডের মাধ্যমে সত্যতা পেয়ে ২০০২ সালের ২ ডিসেম্বর তালাক কার্যকর হয়। এরপূর্বেই আলেয়া নিজের সন্তানদের সাথে নিয়ে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জে চলে যান আলেয়া।
তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রবাসী কলমদর আলী দেশে এল দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর পর বিশ্বনাথে ফিরে এসে আলেয়া বেগম গংরা তার (কলমদর) বাড়ি-ঘর, জায়গা-জমি গ্রাস করার কু-উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র শুরু করে। প্রবাসীর বসতঘরে ঢুকে মারধর ও ভাংচুর করে। এঘটনায় প্রবাসী মামলা দায়ের করেন। মামলা নং বিশ্বনাথ সিআর ২৭৯/২০১৭। এতে আলেয়া গংরা আরোও ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু প্রভাবশালী মানুষের ইন্ধনে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রবাসীর (কলমদর) বসতঘর দখল করে নেয়। জায়গা সম্পত্তি দখল করতে প্রবাসী কলমদর আলী সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজধারী কার্যবিধি আইনে মামলা দায়ের করেন। যার নং ৪০/২০১৭ইং। আদালত বিষয়টি তদন্তের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)’কে নির্দেশ দেন। এরি প্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর সার্ভেয়ার, পুলিশ’সহ প্রবাসীর পক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে দখলদাররা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা করে। হামলার ঘটনায় প্রবাসীর ভায়রা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১১ (তাং ১৯.১০.১৭ইং)। এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি বরাবরেও লিখিত দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ কাজিরগাঁও গ্রামের কাচা মিয়া, আঙ্গুর মিয়া, আতিক আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত কাচা মিয়ার পিতা ছুরত মিয়া ও দাদা আলমাস মিয়া চিহিৃত ডাকাত বলে প্রবাসী কলমদর আলীর তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কাজীরগাঁও গ্রামের মুরব্বী আরজু মিয়া, ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম, প্রবাসীর ভায়রা জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠক শামীম আহমদ, পিয়ার আলী, ডালিম খান প্রমুখ।

Related posts