September 23, 2018

বিশ্বনাথে শেষ মূহুর্তে জমে উঠছে কোরবানির পশুর হাট

11-09-16মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: কোরবানী ঈদ সামনে রেখে জমে উঠছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্থায়ীসহ ১৫ পশুর হাট। পশু কেনা বেচায় সরব হয়ে উঠছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রাঙ্গনে ১২টি অস্থায়ী পশুর হাট দর-পত্রের মাধ্যমে ইজার দেয়া হয়েছে। বাজারে আসা অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন গত বছরের চেয়ে এবছর গরুর দাম অনেক বেশি।

জানাগেছে, উপজেলায় প্রতিটি কোরবারনীর হাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাক যোগে গরু আসছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারগুলোতে কোরবানীর পশুতে হাটের আনাচে কানাচে পূর্ণ হয়ে যায়। ছোট বড় মাঝারি সব ধরনের গবাদি পশু এসব বাজারে পাওয়া যায়। এর মধ্যে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদাই বেশি দেখা গেছে। তাই এমন আকারের গরুর দামও তুলনামূলক বেশি। গত এক সপ্তাহে উপজেলার গরুর বাজারে ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে দুই লাখ টাকা মূল্যের গরু দেখা গেছে।

অন্যদিকে, দেশী ছাগল ৮ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ছাগল উঠেছিল। উপজেলার মধ্যে বিশ্বনাথ পুরান বাজার, বৈরাগী বাজার ও পীরের বাজারে স্থায়ী পশুর হাট ছিল। এ হাট ছাড়াও উপজেলার ১২টি পয়েন্টে অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। অস্থায়ী কোরবানীর পশুর হাট হলো, লামাকাজী বাজার, রাজাগঞ্জ বাজার, মুফতির বাজার, পনাউল্লা বাজার, রামপাশা বাজার, আশুগঞ্জ বাজার, পুরান হাবড়া বাজার, সিংগের কাছ বাজার, কাইয়া-কাইড় বাজার, বাগিছা বাজার, কাহিরঘাট বাজার, মিয়ার বাজার।

প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথে জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। হাটে কোরবানীর পশু কিনতে ক্রেতারা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। বাজারে পশু ক্রয়-বিক্রয়ের পাশাপাশি ইন্টারনেট ফেইসবুক ও ওয়াটর্সআপে চলছে কেনা বেচা। এদিকে, পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ করতে দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসী।

রোববার উপজেলা সদরের পুরান বাজার গরুর হাটে দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতার দৌড়াদৌড়ি। বাজারের ইজারাদার ক্রেতাদের সুবির্ধাদে ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করে রেখেছেন। বাঁশ দিয়ে সারিবদ্ধভাবে লাইন করা হয়েছে। মানুষ চলাচলের জন্য উভয় সারির মধ্যখানে বেশ জায়গা রাখা হয়েছে। তারপর গাদাগাদি করে চলাচল করছেন গরু কিনতে আসা ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবার দেশী গরুর দাম গত বারের চেয়ে কিছু বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে। খাঁশি, বেড়ার দাম গত বছরের চেয়ে এবছর বেশীদামে বিক্রি হচ্ছে।

আসন্ন ঈদুল আযহা ঈদ কে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে এসেছেন অনেক প্রবাসী। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে এসেছেন বলে জানান কারিকোনা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফরহাদ আহমদ। তিনি বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে  দেশে এসেছেন।
ব্যবসায়ী রহিম আলী, খালিক মিয়া ও জিলু মিয়া বলেন, এ বছর গরুর দাম বেশী। গো-খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এ বছর গরুগুলো বেশী দামে বিক্রি হচ্ছে।

প্রবাসী মনির মিয়া জানান, তিনি মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশে এসেছেন। কুরবানীর জন্য দেশী গরু ক্রয় করতে তিনি বেশ আগ্রহী। আর তাই কয়েকটি গরু দেখেছেন ও ঐসব গরুর ছবি মোবাইলে তুলে ফেইসবুক ও ওয়াটর্সআপের মাধ্যমে প্রবাসে থাকা অন্যান্য সদস্যদের কাছে দিয়েছেন। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে গরুটি সবার কাছে পছন্দ সেটিই তিনি ক্রয় করবেন।

উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, রোববার দুপুরে বাজার ঘুরে একটি কোরবানি পশু ক্রয় করি। তবে গত বারের চেয়ে এবার দাম একটু বেশি। তারপরও লোকজন পশু ক্রয় করছেন বলে তিনি জানান।

Related posts