September 25, 2018

বিশ্বনাথে রিমা’র আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা : পলাতক সুমনের পরিবার

6999454-696x348বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথে কলেজ ছাত্রী তাসলিমা খানম রীমার (১৬) আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী পার্শ্ববর্তি বাড়ির বখাটে সুমন আহমদকে (২৫) প্রধান আসামিসহ তার পরিবারের আরও ৬জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, (মামলা নং ১৫)। সোমবার (১৯ফেব্রুয়ারি) রাতে বিশ্বনাথ থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন নিহত রীমার বাবা বিশ্বনাথ উপজেলা আ’লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও লামাকজির খেশবপুর বিদ্যাপতি গ্রামের ডা: শাহনুর হোসাইন। মামলায় বাকি অভিযুক্তরা হচ্ছেন, সুমনের মা মায়ারুন নেছা (৫৫), বড় ভাই বাদশা মিয়া (৪০), বোন রেহানা বেগম (৩০), শাবানা বেগম (২৩), ভাবী রোশনা বেগম (৩০) ও ভাবী রীনা বেগম (২৬)।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে রীমার আত্মহত্যার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছে সুমনের পরিবার। সিলেটের মঈনুদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীতে পড়–য়া রীমা খেশবপুর বিদ্যাপতি গ্রামের ডা: শাহনুর হোসাইনের মেয়ে। আর সুমন লামাকাজি ইউনিয়নের তথ্য-ই সেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ও একই গ্রামের মৃত তাজ উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে স্বপরিবারে পলাতক থাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ৩দিন কর্মস্থলে উপস্থিতহতে পারেননি প্ররোচনাকারী সুমন আহমদ। এরআগে সোমবার ইউনিয়ন পরিষদের এক সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে লাপাত্তা ঘোষান করা হয়েছে। সেই সাথে ইউনিয়ন পরিষদে একজন উদ্দ্যোক্তা নিয়োগের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদনও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন লামাকাজি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া।

IMG_20180217_210244_733মামলার এজাহারে শাহনুর হোসাইন উল্লেখ করেন, রীমা দশম শ্রেণীতে থাকা অবস্থায় স্কুলে যাওয় আসার সময় সুমন আহমদ রাস্তাঘাটে অসৌজন্যমূলক আচরণসহ প্রতিনিয়ত উত্যক্ত করতো। এবিষয়ে সুমনের পরিবারের সদস্যদের কাছে একাধিকবার বিচার প্রার্থী হলেও কোনো প্রতিকার পাননি। এতে এক পর্যায়ে রীমা স্কুলে যেতে অনিহা প্রকাশ করে। নিরুপায় হয়ে শাহনুর হোসাইন নিজে অথবা তার ছেলেকে সঙ্গে দিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় নিয়ে যেতেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর সিলেট মঈন উদ্দিন মহিলা কলেজে ভর্তী করেন। কলেজে যাওয়া আসার এক পর্যায়ে বখাটে সুমন আহমদ কৌশলে রীমার একটি ছবি তুলে এডিটিং করে আপত্তিকর ছবি বানিয়ে নেয়। গত ১৪জানুয়ারি ছবিটি ফেসবুকে পোষ্ট করার ভয় দেখিয়ে রীমাকে সুনামগঞ্জে নিয়ে যায়। ওইদিন সুমন তার মেয়েকে তুলে নিয়েছে বলে তার (শাহনুর হোসাইনের) মোবাইলে সুমন ম্যাসেজ পাঠায়। আর ওই ম্যাসেজ পেয়ে সুনামগঞ্জ থেকে রীমাকে উদ্ধার করেন তিনি। এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে মেয়ে রিমা আত্মহত্যা করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন বাদি শাহনুর হোসাইন।

এব্যাপারে থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, মামলা রুজ্জুর আগ থেকেই আসামি গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে।

Related posts