September 21, 2018

বিশ্বনাথে রাস্তায় গেইট নির্মাণ নিয়ে দু’পক্ষের বিরোধ

DSC_0097বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের একটি রাস্তায় গেইট নির্মাণ করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি রাস্তায় একটি পক্ষ গেইট নির্মাণ করলে অপর পক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, হুসেনপুর গ্রামের মধ্যদিয়ে কিশোরপুর-ঘাসিগাঁও রেলক্রসিং সংযুক্ত রাস্তার প্রবেশ দ্বারে একটি গেইট নির্মাণ করেন হুসেনপুর গ্রামের বড়বাড়ির বাসিন্দারা। সরকারি রাস্তায় ব্যক্তি উদ্যোগে দেয়াল ও গেইট নির্মাণ করার অভিযোগে গত ৭ আগষ্ট ও ৮ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

হুসেনপুর-কিশোরপুর-ঘাসিগাঁও রেলক্রসিং রাস্তাটি সরকারি রাস্তা দাবি করে ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, একটি প্রভাবশালী মহল রাস্তার উপর অবৈধভাবে ব্যক্তিনামীয় গেইট ও দেয়াল নির্মাণ করছেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউনিয়ন প্রয়াগমহল ভূমি অফিসের তসিলদার সরেজমিন রাস্তাটি পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। এরপর গত সোমবার উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা রাস্তাটি জরিপ করেন।

এব্যাপারে হুসেনপুর গ্রামের আশিকুর রহমান রানা বলেন, ফয়ছল আহমদ গংরা সরকারি রাস্তায় অবৈধভাবে দেয়াল ও গেইট নির্মাণ করে তাদের বাড়ির নামে সাইনবোর্ড লাগানোর চেষ্টা করছেন। এই রাস্তা দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। তাই নির্মাণকৃত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

ফয়ছল আহমদ তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আমরা কয়েকটি পরিবারের লোকজন যাতায়াত করি। যদিও এই রাস্তাটি সরকারি তবুও আমরা আমাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা দিয়ে রাস্তাটি বড় করেছি এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আমরা রাস্তার কিছু অংশ পাকাকরণও (আরসিসি) করেছি। আমাদের বাড়ির সীমানার দেয়ালটি ১৯৯০ সালে নির্মাণ করা হয়। সুন্দর্য বর্ধনের জন্য রাস্তার প্রবেশ মুখে একটি গেইট আমরা নির্মাণ করছি। রাস্তার প্রবেশ মুখে দেয়ালে আমাদের বাড়ির নামের সাইনবোর্ডটি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ রয়েছে। ্এছাড়া খাজাঞ্চী-হুসেনপুর-মুফতির বাজার সড়কে আমাদের কোন অবৈধ স্থাপনা নেই। যারা অবৈধভাবে সরকারি জায়গায় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা উদ্ধারের জন্য আমরা প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

ইউনিয়ন প্রয়াগমহল ভূমি অফিসের তশিলদার আব্দুস শুকুর বলেন, আমি সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিয়েছি। ইতিমধ্যে রাস্তাটি সার্ভে করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

Related posts