December 14, 2018

বিশ্বনাথে মিথ্যা মামলা ও হয়রানী থেকে রেহাই পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

12.07.18বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের মিরগাঁও গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুন নুর কর্তৃক দায়েরকৃত একাধিক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানী থেকে রেহাই পেতে মিরগাঁও গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালাকদার’র কাছে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন মিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য শায়েস্তা মিয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নূর উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান স্বপ্না শাহিন, বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, লামাকাজী ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া, দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান আমির আলী, দেওকলস ইউপি চেয়ারম্যান তাহিদ মিয়া, অলংকারী ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল, খাজাঞ্চী ইউপি চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন, দশঘর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ছাতির প্রমুখ।

স্বারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী আব্দুন নূর কর্তৃক গ্রামের মসজিদে তালা দিয়ে মুসল্লিদেরকে ৪ওয়াক্ত নামাজ থেকে বিরত রাখা ও হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করায় গ্রামবাসী এর প্রতিবাদ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ’সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি নিস্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শফিক চৌধুরী’সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে আব্দুন নুর সকলের কাছে ক্ষমা চাইলেও মুরব্বিদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত আপোষনামায় স্বাক্ষর না দিয়ে এলাকার নিরীহ লোকদেরকে আসামী করে বিভিন্ন থানায় একরে পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে আসছেন। ইতিমধ্যে নিরীহ গ্রামবাসীকে আসামী করে আব্দুন নুর ছাতক থানায় ৩টি মামলা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় ২টি মামলা, জালালাবাদ থানায় ১টি মামলা, দক্ষিণ সুরমা থানায় ১টি মামলা, কোতওয়ালী থানায় ২টি মামলা, বিশ্বনাথ থানায় ১টি মামলা ও সিলেট আদালতে ৪টি সিআর মামলা দায়ের করেন। আব্দুন নুর নিজেকে যুক্তরাজ্যে এক আইনজীবী ও জুরি বোর্ডের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এলাকার নিরীহ লোকদের হয়রানীর পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। মসজিদে তালা ও মহানবী (সাঃ) এর বিরুদ্ধে কটুক্তিমূলক উক্তি উচ্চারণ করায় নিরীহ জনগণ আব্দুন নুরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্ত গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এই মামলা দায়ের করলে আমাদের উপর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন আব্দুন নুর। দক্ষিণ সুরমার কামাল বাজার এলাকায় নিজের জায়গার উপর আব্দুন নুর বিল্ডিং নিমার্ণ করতে গেলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের সাথে তার (আব্দুন নুর) কিছু সমস্যা হয়। এই ঘটানায় দায়েরকৃত মামলায় প্রতিহিংসামূলক ভাবে মিরগাঁও গ্রামের নিরীহ লোকদের জড়িয়ে আসামী করা হয়। গ্রামবাসীর উপর চাঁদাবাজির আনিত অভিযোগ যা আদৌ সত্য নয়। এলাকার নিরীহ লোকদের উপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রামবাসীকে হয়রানী করা থেকে আব্দুন নুরকে বিরত থাকার জন্য বলায় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমনুল ইসলাম রুহেল এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রিয়াজ আলীও চাঁদাবাজীর অভিযোগ থেকে রেহাই পাননি। আব্দুন নুর গ্রামবাসীকে হত্যার হুমকিও প্রদান করে আসছেন। ইতিমধ্যে গ্রামবাসীর উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী আব্দুন নুরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এসব স্বারকলিপিতে সাবেক সংসদ সদস্য, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যবৃন্দ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ স্বাক্ষর ও গণস্বাক্ষর করেছেন এবং আব্দুন নুরের বিরুদ্ধে এলাকায় ও উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। তাই দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলো থেকে এলাকার নিরীহ লোকজনদেরকে অব্যাহতি প্রদান ও আব্দুন নুরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্মারকলিপিতে আবেদন জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সকল ইউপি চেয়ারম্যানগণ স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা মাসিক সভায় এলাকার নিরীহ লোকদের উপর একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানী করার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।

Related posts