November 20, 2018

বিশ্বনাথে ভাইয়ের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রী বোনের সংবাদ সম্মেলন

18.11.17বিশ্বনাথ ( সিলেট) প্রতিনিধি  :: যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৎ ভাইয়ের অত্যাচার-নির্যাতন, প্রাণনাশের হুমকি, একাধিক মিথ্যা মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং পৈত্রিক সম্পত্তি ও জন্ম পরিচয় রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করে সিলেটের বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবে শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘মঈনউদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ’র দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শাহানারা বেগম। তিনি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও গ্রামের প্রবাসী মৃত ওয়াহাব আলীর কন্যা।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম ও এসআই জহিরুলসহ আইন প্রশাসনের অনেকেই শাহানার প্রবাসী সৎ ভাই কলমদর আলীর টাকার কাছে থানার দালাল মিরাশ আলীর মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কলেজ ছাত্রী। পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষ হওয়ার ও শাহানারার উপর থেকে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিগত সময়ে তার কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনও করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে কলেজ ছাত্রী শাহানারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমার ভাগ চেয়ে উপজেলার দৌলতপুর ইউপিতে প্রথম আবেদন করি। সম্পত্তির ভাগ চাওয়ার কারণে সৎ ভাইয়ের আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া শুরু করেন। অথচ ২০১০ সালের ৭ নভেম্বর পিতার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত কলমদরসহ প্রবাসী সৎ ভাই-বোনের এবং ২০১৬ সাল পর্যন্ত কলমদর ছাড়া বাকী সবাই শাহানারাদেরকে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। ২০১৭ সালে গোপনে একক ভাবে নামজারী করে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন প্রবাসী কলমদর আলী। তখন শাহানারার আপত্তির প্রেক্ষিতে ২৩০৩/২০১৭ মামলায় তা বাতিল হয় এবং শাহানারাসহ সবার নামে নামজারী করার জন্য সুপরামর্শ দেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। নামজারী আবেদন বাতিল হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রবাসী কলমদর আলী নিজের লালিত-পালিত গোন্ডা বাহিনী দিয়ে শাহানারার বসতঘর ভাংচুর করেন। এঘটনায় কলেজ ছাত্রী শাহানারা আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৮/১৭। এঘটনায় থানা পুলিশের কোন সহযোগীতা না পাওয়ায় চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ৩ অক্টোবর পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার, র্যাব-৯ অভিযোগ নং ২৮৬’এর বরাবরে নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার পাওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
কলেজ ছাত্রী শাহানারা লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ১৯৯৪ সালের ৫মে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে শাহানারার মা মোছাঃ আলেয়া বিবিকে বিয়ে করেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী ওয়াহাব আলী। ইউসুফ আলী নামে শাহানারার ছোট এক ভাইও আছে। ওয়াহাব আলীর প্রথম স্ত্রী মোছাঃ নছিরা বিবি ছিলেন ৬ সন্তানের জননী। ‘শাহানারা ও ইউসুফ’র জন্মের পর ওয়াহাব আলী নিজ হাতে ২০০১ সালে উপজেলার দৌলতপুর ইউপির চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছ থেকে তাদের (শাহানারা-ইউসুফ) জন্মসনদ সংগ্রহ করেন। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল দৌলতপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্বাস আলী উত্তরাধিকারী সনদ ও ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই একই পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী নাগরিকত্ব সনদ (ক্রমিক নং ১৩৮৮-১৩৯০) প্রদান করেন ‘শাহানারা ও ইউসুফ’কে। এরপরও সৎভাই কলমদর দাবী করছেন আমরা (শাহানারা-ইউসুফ) আমাদের পিতা ওয়াহাব আলীর ঔরশজাত সন্তান নয়। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি তার। সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য সৎভাই কলমদর আমাদের (শাহানারা-ইউসুফ) বৈধ জন্ম পরিচয়, জীবন্ত কবর দিচ্ছেন এবং আমরা (শাহানারা-ইউসুফ) যাতে কোন দিন যুক্তরাজ্যে যেতে না পারে সেজন্য আমাদের (শাহানারা ও ইউসুফ) পিতার বৃট্রিশ পাসপোর্ট ও আমাদের আপিলের সকল কাগজপত্র সৎভাই কলমদর গুম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে কলেজ ছাত্রী শাহানারার। অথচ আমাদের আপন চাচা, চাচাত ভাই-বোনেরা ও আত্মীয়-স্বজনরাই আমাদের (শাহানারা ও ইউসুফ) বৈধ জন্মের স্বাক্ষী এবং তারাই আমাদেরকে সর্বদা সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। এছাড়া পাড়া-প্রতিবেশি ও গ্রামবাসী আমাদের জন্ম, বেড়ে উঠার স্বাক্ষী আছেন। আমাদের (শাহানারা ও ইউসুফ) কোন ডিএনও টেস্টও করা হয়নি। তার পরও আমরা কিভাবে অবৈধ হলাম জানতে চাই? অথচ সৎভাই কলমদর পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাৎ করার লোভে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে প্রানে মারার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। নিরাপত্তা চেয়ে গত ২ অক্টোবর বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরী (নং ৯৩/১৭) দায়ের করেন। এর কিছুদিন পর এসআই জহিরুলের সহযোগীতায় শাহানারার বাড়িতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে সৎভাই কলমদর আলী নিজের বাহিনীর লোকজন (আরজু, মকই, মিরাশ, জাহাঙ্গীর, আনসার)’কে নিয়ে শাহানারার উপর অমানবিক নির্যাতন করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন কলেজ ছাত্রী।
এসময় গত ৪ নভেম্বর প্রেসক্লাবে করা সংবাদ সম্মেলনে কলমদর আলীর সকল বক্তব্য মিথ্যা ও কোন শব্দের প্রমাণ কলমদর আলী দিতে পারবেন না বলে দাবি করে চ্যালেঞ্জ করেন কলেজ ছাত্রী শাহানারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার কাজিরগাঁও গ্রামের ছুরত মিয়া, আমির আলী, তারিছ আলী, আবুল মিয়া, নুর মিয়া, মতছির আলী, কাছাই মিয়া, মনসুর আলী, সৈয়দ মিয়া, ছুরত আলী প্রমুখ।

Related posts