September 23, 2018

বিশ্বনাথে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সার বন্ধ ঘোষনা

474

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা বন্ধ রাখার ঘোষনা দিয়েছেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরের এ বিষয়ে উপজেলা সদরের পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। আগামী এক মাসের মধ্যে ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ করে দেয়ার আহবান জানিয়ে এ মাইকিং করা হয়। এতে রিক্সা মালিক ও গ্যারেজের মালিকদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ রাখার ঘোষনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক বলেন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের আহবানে আগামী এক মাসের মধ্যে উপজেলা সদরে সকল ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ রাখার নিদের্শ দেয়া হয়েছে। এক মাসের পরও যদি ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ না করা হয়,তাহলে পুলিশ অভিযানে নামবে বলে তিনি জানান।

এ্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, পরিষদের সভায় ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ রাখার সিন্ধান্ত গৃহিত হয়। তবে এক মাসের সময় রিক্সা চালক ও মালিকদের দেয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ব্যাটারী চালিত রিক্সা বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর উপজেলা সদরের অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে বলে তিনি জানান।

জানাগেছে, সিলেট নগরীতে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা বন্ধ হওয়ায় এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাশ্ববর্তী প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা সদরসহ প্রতিটি বাজারে ব্যাপক হারে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সার ছড়াছড়ির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হলেও যানবাহনটি এখন মহামারি হয়ে দাড়িয়েছে। কম বয়সী ও অদক্ষ চালকরা ব্যাটারি চালিত রিক্সা নিয়ে যাত্রী বহন করে থাকে। নিয়মবিধি ভঙ্গ ও অদক্ষতার ফলে দিন দিন দূর্ঘটনার মাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। শুধু তাই নয় নিয়মের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যেখানে সেখানে পার্কিং ও যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ নিত্য দিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে।

উপজেলার প্রতিটি বাজারে কয়েক শত ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা যাত্রী বহন করে যাচ্ছে। ব্যাটারি দ্বারা ওই যানবাহনটি চালিত হওয়ার কারণে প্রতিদিন রাতে কয়েকশত ব্যাটারি চার্জ করতে হয়। এতে বিদ্যুতের ব্যাপক অবক্ষয় সংঘটিত হচ্ছে। প্রতিদিন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষকে এর অসুবিধা স্বীকার হতে হয়। এ কারণে বেড়ে যাচ্ছে অধিক হারে লোড শের্ডিংয়ের মাত্রাও।

এলাকার অনেকেই মনে করেন, ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা প্রত্যাহার করে পা চালিত রিক্সার প্রচলন হলে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক স্বস্থি ফিরে আসবে। কমে যাবে নিত্য দিনের দুর্ঘটনার মাত্রা। এছাড়া বিদ্যুতের অবক্ষয় রোধ হয়ে লোড শের্ডিংয়ের মাত্রাও লোপ পাবে।

Related posts