November 20, 2018

বিশ্বনাথে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল কিশোরী

29663795_1658962464183279_1093925806_n-1মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে :: কনে কিশোরী। তার বয়স ১৪ বছর ৫ মাস। প্রতিবেশীরা আগেই কনপক্ষকে সতর্ক করেছিল কনের বিয়ের বয়স হয়নি। এই বাল্যবিয়ে হলে তা হবে বেআইনি। তারপরও গোপনে বিয়ের আয়োজন করে কনে পক্ষ। (২৪ মাচ) গত শনিবার রাতেই গোপনে ওই কিশোরীর বিয়ে দেয়ার আয়োজন করা হয়। এমন খবর পান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বিষয়টি বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। বাল্যবিয়ে খবর পেয়ে শনিবার রাতেই থানার এসআই নবী হোসেন বর-কণে পক্ষের লোকজনকে থানায় নিয়ে আসেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের পরতাবপুর (কুমারপাড়া) গ্রামে নূর মিয়া বাড়িতে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার আজ রোববার দুপুরে বর-কণে পক্ষের লোকজনকে নিয়ে তার কার্যালয়ে বাল্যবিয়ের কুফল নিয়ে আলোচনা করেন।

জানাগেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার পরতাবপুর (কুমারপাড়া) গ্রামে নূর মিয়া কিশোরী মেয়ে নিমা বেগম (১৪) বিয়ে ঠিক করা হয় কোম্পানীগঞ্জ থানার উত্তর ভুরদেয় গ্রামের আমির আলীর ছেলে শামছুল আলম (২০) সঙ্গে। কনের বিয়ের বয়স হয়নি, এই বিয়ে হলে তা হবে বেআইনি, প্রতিবেশীরা বরপক্ষকে আগেই বাল্যবিয়ে বিষয়ে সতর্ক করে। কিন্তু প্রতিবেশীদের কথা না শুনে তারা গোপনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিয়ের আয়োজন করে কনে পক্ষের বাড়িতে। শনিবার রাতে গোপনে বাল্যবিয়ের আয়োজনের খবরটি পান নির্বাহী অফিসার। তিনি দ্রুত বিশ্বনাথ থানা প্রশাসনকে বিষয়টি জানান এবং বাল্যবিয়ের ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য বলেন। ইউএনও’র হস্তেক্ষেপে থানার এসআই নবী হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। ফলে রক্ষা পায় বাল্যবিয়ের হাত থেকে কিশোরী। আজ রোববার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে কিশোরীর পরিবারের পক্ষে নির্বাহী অফিসার কাছে অঙ্গীকার করেন, প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত নিমা বেগমকে বিয়ে দেয়া হবে না।

এসময় ইউএনও বর-কনের পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরে বাল্যবিয়ে না দেয়ার জন্য কিশোরীর পরিবারকে বুঝান। ইউএনওর কথা শুনে বাল্যবিয়েটি ভেঙ্গে দেন কিশোরীর পরিবার এবং তাদের মেয়েকে প্রাপ্ত বয়স (১৮ বছর) পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ে দিবেন বলে অঙ্গিকার করেন। এমনকি লিখিতভাবেও তারা অঙ্গিকারনামা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ সদর ইউপি চেয়ারম্যান ছয়ফুল হক, উপজেলা মহিলা বিয়ষক কর্মকর্তা কাসমীর সুলতানা, থানার এসআই নবী হোসেন, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সদস্য অসিত রঞ্জন দেব।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, কিশোরীর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেয়া হবে না পরিবার অঙ্গিকার করেছে।

Related posts