September 20, 2018

বিশ্বনাথে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি

8.03.17

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট )প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ‘বাসিয়া নদী’র দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সঠিক মাপ অনুযায়ী সুষ্ঠভাবে ‘বাসিয়া’ পুনঃখননের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার সকালে বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন ‘বাঁচাও বাসিয়া ঐক্য পরিষদ’র আহবায়ক ফজল খান।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত সময়ে বাসিয়া নদীর ১৮ কিলোমিটার পুনঃখননের নামে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)- সিলেট’র কর্মকর্তা ও ঠিকাদার সরকারি অর্থ লুটপাঠ করেন। বর্তমান সময়ে জলবায়ু ট্রাস্টের আওতায় আরোও ৭ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। এরপর স্থানীয় জনতা নদীর দুই তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এস.এ রেকর্ড ম্যাপ অনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারণের দাবী জানিয়ে আসছেন।

কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে তা হচ্ছে না। উল্টো অবৈধ স্থাপনা থাকা নদীর তীরের ৪শত মিটার অংশ ছেড়ে দিয়ে ও অবেধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ‘বাসিয়া নদী’ পুনঃখনন কাজের অনুমতি দিয়েছে বাপাউবো। এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ১৭২টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরী করে ৯ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত আইন শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরও তা জেলা প্রশাসক বরাবর প্রেরণ করেনি।

স্মারকলিপিতে আরোও উল্লেখ করা হয়েছে, পুনঃখনন কাজের ঠিকাদার ও বাপাউবো’র কর্মকর্তারা অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পূর্বেই পুনঃখনন কাজ শুরু করেন। জাতীয়-স্থানীয় একাধিক পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে এবং স্থানীয় জনসাধারণও আন্দোলন করে যাচ্ছেন। গত বছরের ১২ নভেম্বর বাপাউবো’র কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়েই প্রথম দাপে উপজেলা পরিষদের সামন থেকে নদীর সীমানা নিধারণ করেন। পরবর্তিতে আবারও স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়েই চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকা থেকে আগত ট্রাস্টফোর্স দলের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আবারও সার্ভে করে করেন বাপাউবো। এসময় প্রথমে নদীর প্রস্থের ৩৩ মিটার মাপ থেকে কমিয়ে এনে ২০/২৫ মিটার করেন বাপাউবো’র কর্মকর্তারা।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় ও মাপ কমানোর কারণে নদী পুনঃখননের আসল উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন হচ্ছে না, শুধুমাত্র সরকারি টাকা লুটপাঠ ছাড়া। জনগণও এতে উপকৃত হচ্ছেন না। এমতাবস্থায় জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এস.এ রেকর্ডের ম্যাপ অনুযায়ী বাসিয়া নদীর সীমানা নির্ধারণ করার পর নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে বর্ষা মৌসুমের পূর্বে বাসিয়া পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী, বিশ্বনাথ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জুবায়ের, বিশ্বনাথ নতুন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সহ সভাপতি মতছির আলী, বাঁচাও বাসিয়া ঐক্য পরিষদের উপদেষ্ঠা মাহবুবুর রহমান লিলু, আহবায়ক ফজল খান, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ হাবিব, সদস্য তোহিন আহমদ দুলাল, সংগঠক আক্তার হোসেন।

Related posts