November 20, 2018

বিশ্বনাথে নিজ গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর অবাঞ্চিত ঘোষনা

Upবিশ্বনাথ ( সিলেট ) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনসহ তার পরিবারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিবাগত রাতে চেয়ারম্যান’র নিজ গ্রাম আমতৈল বাজারে শালিস বৈঠক থেকে এ ঘোষণা করা হয়।

সেই সাথে আমতৈল গ্রামের হারুণ মিয়া ও জমসেরপুর গ্রামের সামছুল ইসলাম’র পরিবারকেও অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন বৈঠকে উপস্থিত লোকজন। বৈঠকে আমতৈল, জমসেরপুর ও মাখরগাঁও গ্রামের কয়েক শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলেন। এনিয়ে এলাকায় টানা টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রায় একমাস ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের পুরাতন বাজারে একটি শুটকির দোকান বিক্রয়কে কেন্দ্র করে এ দ্বদ্ধের সৃষ্টি হয়। ওই দোকানটি আমতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের নিজস্ব সম্পত্ত্বি হিসেবে প্রায় ৪০বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চায়েতের নির্ধারিত বিশ্বনাথ পুরাতন বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে ওই দোকানে ২০বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন আমতৈল গ্রামের হারুণ মিয়া।

এতে প্রতিমাসে ৪হাজার টাকা ভাড়া পরিশোধ করেও আসছিল। এর পূর্বে আমতৈল জমসের পুর গ্রামের সামছুল হক’ও ওই দোকানে ব্যবসা করেন। তিনি প্রায় ২০বছর পূর্বে হারুণ’র কাছে দোকানটি বিক্রি করে ব্যবসা ছেড়ে দেন। কিন্তু হারুণ মিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত অথবা ওই মৎস্য সমিতির কাউকে না জানিয়ে মার্চের প্রথম দিকে বিশ্বনাথ পুরাতনবাজার বণিক সমিতিরি সাবেক সভাপতি আরশ আলীর কাছে দোকানটি বিক্রি করে দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে আমতৈল গ্রামবাসী ও মৎস্য সমিতির লোকজনের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে। এনিয়ে আমতৈলবাজরে বেশ কয়েকটি বিচার বৈঠক হয়। সর্বশেষ অভিযুক্তদের নিয়ে শুক্রবার রাতে চেয়ারম্যান আলমগীর সমন্বয়ে বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

কিন্তু আলমগীর ওই বিচার বৈঠকে অভিযুক্তদের হাজির না করে পুলিশ নিয়ে বৈঠকে বাঁধা সৃষ্টির অভিযোগে উপস্থিতি লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। এসময় উপস্থিত শত শত লোকজন চেয়ারম্যানর বিরোদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে পুলিশ ও চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মিছিল শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান’সহ তিনটি পরিবারকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন।

এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইমাম উদ্দিন ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলতাই মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান’র বাবা আবুল বশর অভিযুক্তদের সাথে আতাত করে তাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আসছেন। তাই চেয়ারম্যান কৌশলে বৈঠক বানচাল করতে পুলিশ নিয়ে উপস্থিত হন। এজন্য তাদেরকে স্থানীয়ভাবে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছেন বলে তারা জানান।

ওই বৈঠকের তারিখ তার সমন্বয়ে করা হয়েছে স্বীকার করে চেয়ারম্যান আলমগীর বলেন, তার বিরোদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। স্থানীয় ইমাম উদ্দিন মেম্বারকে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান না করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে উঠেছেন।

Related posts