December 13, 2017

বিশ্বনাথে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা : হামলায় আহত ২

24824355_1959867680928213_757594816_nমোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি ::সিলেটের বিশ্বনাথে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫নভেম্বর) রাত ৭টায় উপজেলা উপজেলা পুরাতন হাবড়া বাজারে এঘটনাটি ঘটে। হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। হামলায় আহতরা হলেন উপজেলার হাবড়া গ্রামের মৃত আবর উল্লাহর পুত্র নূর উল্লাহ (৫৫) ও গৌছ মিয়া (৬০)। তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চরচন্ডী গ্রামের মৃত আফতার আলীর পুত্র আল আমিন তার বাড়িতে ধান পাহাড়া দেওয়া অবস্থায় চোর সন্দেহে পার্শ্ববর্তি ছত্তিশ গ্রামের মৃত ছৈইদ উল্লাহর পুত্র হারিছ আলীকে আটক করেন। এরপর তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আটককৃত হারিছ আলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন হাবড়া গ্রামবাসী। কিন্ত থানায় নিয়ে যাওয়ার আগেই প্রতিমধ্যে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পান হারিছ আলী। বিষয়টি নিয়ে উভয় গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হন। এসময় চুরির অভিযোগে হারিছ আলীকে এবং তাকে মারধরের অভিযোগে হাবড়া গ্রামের মৃত হারিছ আলীর পুত্র বাবুল মিয়া, মৃত ওয়ারিছ আলীর পুত্র ইসলাম উদ্দিন ও চরচন্ডী গ্রামের মৃত আফতার আলীর পুত্র আল আমিনকে আটক করে থানার কাষ্টরিতে রাখা হয়। হারিছ আলীকে আসামী করে আল আমিন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন এবং হারিছ আলীর ভাই এখলাছ আলী বাদি হয়ে আল আমিন’সহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার (৫নভেম্বর) রাত ৭টায় হাবড়া গ্রামের নূর উল্লাহ ও তার ভাই গৌছ মিয়া পুরাতন হাবড়া বাজারে গেলে মামলা পাল্টা মামলার জের ধরে তাদের উপর হামলা করেন হারিছ আলী পক্ষের লোকজন। এরপর হাবড়া ও ছত্তিশ গ্রামবাসীর মধ্যে বিরাজ করে উত্তেজনা। গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে উভয় গ্রামবাসী সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এব্যাপারে আহত নূর উদ্দিনের ভাতিজা আশরাফ উদ্দিন বলেন, হারিছ আলী চুরি করতে এসে হাতে নাতে ধরা পড়লে তাকে আমরা পুলিশে দেই। কিন্ত পরদিন হারিছ আলীর ভাই আমাদের লোকজনদের উপর মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আজ আমার চাচা বাজারে গেলে হারিছ আলী ও এখলাছ আলী গংরা তার উপর হামলা চালায়। এতে আমার চাচা নূর উল্লাহ ও গৌছ মিয়া গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
এখলাছ আলী বলেন, আমার ভাইকে মিথ্যা অভিযোগে মারধরের করায় আমি থানায় মামলা দায়ের করি। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় কে বা কারা আমার বাড়িতে হামলা করেছে। এসময় আমি ও আমার ভাই বাড়িতে ছিলাম না। মসজিদে মাইকিং করা হলে গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। নূর উদ্দিন ও গৌছ আলীর উপর হামলার অভিযোগটি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমাদের উপর আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।
এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related posts