September 25, 2018

বিশ্বনাথে দিঘলী হাসপাতাল বন্ধ! ডাক্তার নেই, ১৫দিন ধরে

05.03.18-1মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: হাসপাতাল আছে, রোগীও আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই। দীর্ঘ দুই বছর ডেপুটেশনে একজন চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা চালানো হলেও গত ১৫দিন ধরে ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসক না থাকায় প্রতিদিনই সকাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সিলেট সদর, বিশ্বনাথ ও ছাতক উপজেলার দুই শতাধিক রোগীদের পড়তে হচ্ছে চিকিৎসা বিড়ম্বনায়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা: আব্দুর রহমানের গাফিলতির কারণে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে সিলেটের বিশ্বনাথের ‘দিঘলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র’টি। মেডিকেল অফিসারসহ ৪টি পদ থাকলেও যেখানে গত দু’সপ্তাহ ধরে কেবল আসা-যাওয়া করেই ক্লান্ত হন রোগীরা, দেখা পাননি কোন চিকিৎসকের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানাগেছে ডেপুটেশনে থাকা উপ-সহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডাক্তার লাকী খাতুন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অন্যত্র বদলি হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় ‘দিঘলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র’টি।

রোববার (৪মার্চ) সকাল দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেলো চিকিৎসকের অপেক্ষায় বারান্ধায় বসে আছেন রোগীরা। ঠিক সেই মুহুর্তে দিঘলী প্রাইমারি স্কুলে যাবার পথে ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী আমিনা বেগম রোগীদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো, ‘ইকানো (এখানে) ডাখতর (ডাক্তার নেই) নাই, আসপাতাল (হাসপাতাল) বন্ধ! এসময় কথা হয় হাসপাতালের বারন্ধায় বসা চিকিৎসা নিতে আসা বিশ্বনাথের উদয়পুরের সত্তরোর্ধ মখলিছ আলীর সঙ্গে। তিনি জানান সকাল ১০টা থেকে তিনি চিকিৎসকের অপেক্ষায় রয়েছেন। একইভাবে সিলেট সদর উপজেলার মৌলভীর গাঁওয়ের ফয়েজ উদ্দিনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম, বিশ্বনাথের মির্জারগাঁওয়ের দিনমজুর আনহার মিয়ার স্ত্রী পিয়ারা বেগমও হতাশা ব্যক্ত করলেন। এভাবে আরও অর্ধশতাধিক রোগীরা আসছেন এবং যাচ্ছেন, কিন্তু চিকিৎসা সেবা পাননি।

এদিকে ১৫দিন ধরে হাসপাতাল বন্ধ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা: আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, উর্ধতন কর্মকর্তাদের না জানানোসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এমনকি নিজের ফায়দা হাসিল না হওয়ায় (আর্থিক সুবিধা না পাওয়া) ওই হাসপাতালে কোন চিকিৎসককে দায়িত্ব নিতে দেননি বলেও অভিযোগ উঠছে। এ প্রসঙ্গে সরাসরি রোববার দুপুর ২টায় কাদিপুরস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি (টিএইচও) ডা: আব্দুর রহমান। তিনি দাম্বিকতা দেখিয়ে বলেন, তার বক্তব্য নিতে হলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি দেখাতে হবে। তা না হলে তিনি (ডা: আব্দুর রহমান) গণমাধ্যমে কোন বক্তব্য দিবেন না।

অথচ, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা: হিমাংশু রায় এ প্রসঙ্গে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দিঘলী উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি জনগুরুত্বপুর্ন। আজ (৫মার্চ) সোমবারের মধ্যে ওই দিঘলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন (সেকমো) চিকিৎসক দেওয়া হচ্ছে।

Related posts