November 25, 2017

বিশ্বনাথে চাষীরা এখন সবজি চাষে ব্যস্ত

IMG_20171115_000926_778মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: সারা  বছর টানা বৃষ্টিতে প্রভাব পড়েছে শীতকালীন সবজি চাষে। অতি বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্থের মুখে পড়েছে বিশ্বনাথ উপজেলার সবজি চাষীরা। উপজেলার অলংকারী, রামপাশা, খাজাঞ্চী ও বিশ্বনাথ ইউনিয়নে বেশী পরিমানে সবজি চাষ হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে সিলেটের বাজারেও বিশ্বনাথের সবজি বিক্রি হতো। এবছর আগাম সবজি চাষ না হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। সংকটের কারণে দিগুণ -তিনগুণ বেড়েছে সবজির দাম।
বেশী দামের আশায় প্রতিবছরের মত এবারও অনেক চাষী বৃষ্টিকে অপেক্ষা করে আগাম জাতের টমেটো, বেগুন, বাধাঁকপি, ফুলকপির বীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু অধিক পরিমানে বৃষ্টিপাতের কারণে পানিতে তলিয়ে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই ফের বীজতলা তৈরী করেছেন। চারা রোপনের উপযোগী হলেও চাষাবাদের জমি জলাবদ্ধতা থাকায় চারা রোপন করতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে অসহায় চাষীরা ভিন্ন পথ খুঁজছেন। জলাবদ্ধ জমিতে উঁচু ভিট তৈরী করে ও রাস্তার পাশে চিচিঁঙ্গা, ঝিঁঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, কুমড়া, শীম, শশাসহ ভিন্ন জাতের সবজি চাষ বেছে নিয়েছেন। অনেকে জমি তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্যমতে, বিশ্বনাথে এ বছর ১৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ করার টার্গেট থাকলেও এপর্যন্ত মাত্র ৫০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে আবাদ চলমান রয়েছে। গত বছরের তুলনায় অনেক কম হওয়ার আশংকা রয়েছে। গত বছর এ অঞ্চলে ১৮০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছিল। তবে বিশ্বনাথের সবজি চাষীদের আলাদা কোন তালিকা বা সংখ্যা নেই।
উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের তালিবপুর গ্রামের সবজি চাষী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওয়াহিদ আলী বলেন, দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে আমাদের সবজি চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আগাম জাতের চিচিঁঙ্গা, ঝিঁঙ্গার আবাদ শুরু করেছি। বৃষ্টি আর না হলে লাভবান হতে পারি।
একই গ্রামের সবজি চাষী নোমান আহমদ বলেন, বেশী লাভের আশায় আগাম টমেটোর বীজতলা করেছিলাম। বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। নতুন করে বীজতলা করেছি। চারাও এখন মাঠে রূপন করেছি। গতবছর নভেম্বরের প্রথম দিকে টমেটো গাছে ফল এসেছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বারবার জমি তৈরী করতে হয়েছে। ফলে খরচও বেশী হবে বলে জানান তিনি।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আলীনুর রহমান জানান, সিলেটের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বিশ্বনাথে টমেটোর চাষ বেশী হয়। প্রতি হেক্টরে ২০ টনেরও বেশী ফলন হয়েছে এ অঞ্চলে। তবে অতি বৃষ্টির কারণে আগাম চাষ হয়নি। তবে শীতকালীন সবজি চাষে কোন প্রভাব পড়বে না। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাষীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে চাষীদের মাঝে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ক্ষেত, বিনামূল্যে সবজির বীজ ও সার দেয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেয়া হবে।

Related posts