November 21, 2018

বিশ্বনাথে চাষীদের অর্থ হাতিয়ে নিলেন মৎস্য কর্মকর্তা

1212-7বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া’র বিরুদ্ধে এবার মৎস্য চাষীদের উপকরণ সহায়তার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাষীদের দেয়া সরকারের বরাদ্ধের এক তৃতীয়াংশ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মৎস্য চাষীরা। এর আগে পোনামাছ ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল বিক্রেতাদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তার কারণেই মৎস্য চাষে এ উপজেলার চাষীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, বিশ্বনাথের সফল মৎস চাষী সারেং মৎস্য খামারের পরিচালক উপজেলার শাহজির গ্রামের কয়েছ আহমদের সাথে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল যৌথ মৎস্য চাষের চুক্তি করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। ঢাকা মৎস্য ভবন’র ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি সম্পাদন করা হয়। চুক্তিপত্র অনুযায়ী চাষীকে ৫০ হাজার টাকার উপকরণ সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি অপ্রতুল তেলাপিয়া’র পোনা ও ১০ হাজার টাকা দেন কয়েছ আহমদকে। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও কয়েছ পাননি অবশিষ্ট আর কোন সহায়তা। মৎস্য অফিসের সহায়তা না পেয়ে ভেস্তে গেছে তার মৎস্য চাষ প্রকল্প। এদিকে কৌশলে পুরো ৫০ হাজারের উপকারণ সহায়তা প্রাপ্তির রেজিষ্ট্রারেও নেয়া হয় কয়েছ আহমদের সই। একই ভাবে ৩০ হাজার টাকা সহায়তার চুক্তি করা হয় ওই গ্রামের আরেক মৎস্য চাষী ছালিক আহমদের সাথে। তার সাথে চুক্তি অনুযায়ী উপকরণ সহায়তা ও রুই, কাতলা, মৃগলে মাছের পোনা দেয়ার কথা থাকলেও তিনি দিয়েছেন ১ কেজি গনিয়া মাছের রেণু ও ১০ হাজার টাকা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও মৎস্য কর্মকর্তা আর খবর নেননি তার। যৌথ মৎস্য চাষ আলোর মুখ না দেখায় এখন একক ভাবে মৎস্য চাষ করছেন তিনি।

এক সময়ের সফল চাষী কয়েছ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমার সাথে মাছ চাষের চুক্তি করে সহ্য়াতার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী সহযোগীতা পাইনি আমি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আমার প্রকল্প। লাভের বিপরীতে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি আমি। তার এমন আচরণে মৎস্য চাষে আগ্রহ হারিয়েছে আমার।

চাষী ছালিক আহমদ বলেন, চুক্তিপত্রে নগদ অর্থসহ আনুসাঙ্গিক দেখা-শুনা’র কথা থাকলে তিনি নামমাত্র পোনা ও টাকা দেয়ার পর আর কোন যোগাযোগ করেননি। দেব-দিচ্ছি বলে বছর পার করেছেন তিনি। এখন নিজের খরচে মাছ চাষ করছি আমি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা এক মৎস্য চাষী বলেন, প্রত্যেককেই এভাবে ঠকিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বক্তব্য জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাই এ বিষয়ে একটু সাক্ষাতে কথা বলতে পারলে ভালো হয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিতাভ পরাগ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমার কাছে এখনও অভিযোগ করেনি কেউ অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা হলে সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান অাহমদ সাংবাদিকদের বলেন, এসব প্রকল্পে চাষীকে টাকা দেয়ার কোন বিধান নেই। চুক্তিতে উল্লেখিত টাকার পরিমানে উপকরণ দেয়া হয়। তিনি কেন টাকা দিলেন? আর চাষীরা কেন উপকরণ বুঝে পায়নি? এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

Related posts