November 13, 2018

বিশ্বনাথে চার জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ,নিরাপত্তাহীনতায় বাদী

IMG-20180625-WA0003বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে চার জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ, একাত্তরের বর্বরতার বিচার চেয়ে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগ নেতা সুন্দর আলী রুহুল। রুহুল উপজেলা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও জানাইয়া গ্রামের মৃত আছদ্দর আলীর ছেলে।

গত ৩ জুন তিনি এ অভিযোগ দেন। অভিযুক্তরা হলেন, বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের জানাইয়া গ্রামের মৃত আমান উল্লার ছেলে মো. আইয়ুব আলী (৭৭), মৃত চমক আলীর ছেলে মো. আব্বাস আলী (৭২), মৃত মরম আলীর ছেলে মো. মছদ্দর আলী (৭৫), মৃত কন্ঠি মিয়ার ছেলে কাছিম আলী (৮০)। এদিকে অভিযোগ দেয়ার পর অভিযুক্তদের স্বজনদের হুমকির কারণে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্বনাথ থানায় সাধারণ ডায়েরী (৮০১/১৬.০৬.১৮ইং) করেছেন রুহুল। ইতিমধ্যে পিবিআইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি টিম ট্রাইবুনালের নির্দেশে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তও করেছে বলে জানা গেছে।

IMG-20180625-WA0005অভিযোগে বলা হয়, সুন্দর আলী রুহুলের চাচা হাজী মনু মিয়া মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ কারণেই যুদ্ধচলাকালীন সময়ে মনু মিয়ার পরিবার হানাদার ও তার দোসরদের রোষানলে পড়েন। ১৯৭১ সালের ১৪ আগষ্ট শনিবার বেলা ১১ টার দিকে অভিযুক্ত ওই ৪ জনের নেতৃত্বে পাকবাহিনীর সদস্যরা তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এ সময় লুটপাট শেষে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়া হয় ঘর-বাড়ি। ঘটনার পরে তৎকালীন অস্থায়ী সরকার মনু মিয়ার পরিবারকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবাহ করে। যা এখন তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। বর্বরতার স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি পোঁড়া ঘরও।

IMG-20180625-WA0004অভিযোগে আরো বলা হয়, উল্লেখিত চারজনই ছিলেন ‘রাজাকার’। তারা ও তাদের সহযোগীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তারা বিশ্বনাথের পার্শ্ববর্তী বিধায়সুলপানি (সোনারগাঁও) গ্রামে জনৈক বমকেশকে হত্যা করেন। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকবাহিনীর সহায়তায় ৭১ সালের ৩১ আগষ্ট মঙ্গলবার তৎকালীন বিশ্বনাথের অন্তর্গত বর্তমানে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের করচাকেলী প্রকাশ শ্রীরামসিতে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা চালান। এদিকে ২০১৬ সালে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গণ-৭১’ প্রকাশনায় রাজাকারের তালিকায়ও রয়েছে অভিযুক্তদের নাম।

এ ব্যাপারে সুন্দর আলী রুহুল, সাংবাদিকদের বলেন, ‘একাত্তরে বিশ্বনাথে সবচে’ বেশি বর্বরতার শিকার হয়েছে আমাদের পরিবার। এখন বিচার চেয়ে আমিও নিরাপত্তাহীন। অভিযোগ তুলে নিতে বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্বনাথ পুলিশ স্টেশনের অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) দুলাল আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে বাদীর নিরাপত্তায় তৎপর রয়েছে পুলিশ।

Related posts