September 21, 2018

বিশ্বনাথে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দিলশাদ

received_1397589533711563বিশ্বনাথ  (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষি ব্যাংকে চাকুরী দেয়ার কথা বলে পাঁচ তরুণের সাড়ে তিন লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে দিলশাদ মিয়া (৪৬) নামের এক ব্যক্তি। সে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার ছিলাউরা ইউনিয়নের ছিলাউরা (মাঝপাড়া) গ্রামের কটু মিয়ার পুত্র। তবে, দিলশাদ দীর্ঘদিন ধরে স্বপরিবারে তার শশুড়বাড়ি আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে বসবাস করে আসছে। রবিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্থ পাঁচ তরুণ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ‘টাকা হাতিয়ে নেয়া’র এই অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, দিলশাদ মিয়ার ফুফাতো বোনের মেয়েকে বিয়ে করেন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের ধলিপাড়া (শেখপাড়া) গ্রামের মৃত কাপ্তান মিয়ার পুত্র মজলু মিয়া। সম্পর্কের সুবাধে তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতো সে। পেশায় কৃষি ব্যাংক-জগন্নাথপুরের দাওরাই বাজার শাখার সিকিউরিটি গার্ড দিলশাদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মজলু মিয়া ও তার স্ত্রীকে (প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা বেতন) কৃষি ব্যাংকে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়। বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যে এসব কথাবার্তায় সে তার ফুফাতো বোনকেও (মজলু মিয়ার শাশুড়ী) সম্পৃক্ত করে। পরে, কৃষি ব্যাংকে ৫জন লোক নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে বলে তাদেরকে জানায়। মজলু মিয়া ও তার স্ত্রীর মত চাকুরীর আশায় সরল বিশ্বাসে বয়সে অপেক্ষাকৃত বেকার তরুণ একই গ্রামের শফিক মিয়ার পুত্র আলী আছকর ৬৫ হাজার টাকা, দশঘর গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের পুত্র শামীম আহমদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা, জগন্নাথপুরের শ্রীরামসী গ্রামের ফালাক আহমদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও একই গ্রামের জকি মিয়া ২০ হাজার টাকা বিভিন্ন সময়ে হাতে ও বিকাশের মাধ্যমে দিলশাদকে প্রদান করেন। এদের অনেকেই গরু, ধান মাড়াই মেশিন ও নানা জিনিসপত্র বিক্রি করে তাকে টাকাগুলো দেন। গত ৭ জুলাই ফোনের মাধ্যমে মজলু মিয়ার কাছে আরও টাকা দাবি করলে দিলশাদ মিয়াকে সন্দেহ করে বসেন তিনি। এর পরপরই সে লাপাত্তা হয়ে যায়। সর্বশেষ, ২৬ জুলাই বৃহষ্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ তরুণদের কয়েকজন দিলশাদের খোঁজে জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে গেলে তার স্ত্রী দুর্ব্যবহার করে তাদেরকে তাড়িয়ে দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের একজন আলী আছকর বলেন, টাকা না পেলে আমরা শিগগিরই আইনের আশ্রয় নেব।

এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত দিলশাদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে (০১৭৪৬ ২৫৯৩৬৯) একাধিকবার কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কথা হয় তার ফুফাতো বোন (মজলু মিয়ার শাশুড়ি) করিফুল বেগমের (ছদ্মনাম) সাথে । তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চাকুরীর জন্যে একবার মজলু মিয়ার ১১ হাজার টাকা আমি দিলশাদের হাতে তুলে দিয়েছি।

কৃষি ব্যাংক-জগন্নাথপুরের দাওরাই বাজার শাখা ব্যবস্থাপক শামসুল ইসলাম বলেন, দিলশাদ মিয়াকে এক বছর আগে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য ছানু মিয়া বলেন, এসব ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। এছাড়াও, বেশকিছুদিন ধরে দিলশাদ মিয়াকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কথা হলে আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু ইমানি বলেন, আমি শনিবার দেশে এসেছি। সোমবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এ ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেব।

Related posts