September 23, 2018

বিশ্বনাথে পল্লী বিদ্যুতের দায়িত্বে অবহেলায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের

207992বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: সিলেটের বিশ্বনাথে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারীরা পথচারীদের নিরাপত্তা ছাড়াই ব্যস্ততম সড়কে গাছ কাটায় সময় ডাল পড়ে তৌরিছ আলী (৩০) নামের এক অটোরিক্সা যাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার লোহারগাঁও গ্রামের হাজী উস্তার আলীর ছেলে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কের দেওকলস মঠুককোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এসময় গুরুতর আহত হন গাড়ীর চালক রফিক মিয়া। চিকিৎসার জন্যে তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুৎ কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সেখান থেকে আসিফ নামে পল্লীবিদ্যুতের এক লাইনম্যানকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

প্রত্যেক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেছেন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীপনা ও অপরিকল্পিতভাবে জনবহুল এই সড়কের উপর গাছের ডাল কাটার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের দেওকলস মঠুককোনা অংশে পথচারীদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা না রেখেই গাছের ডাল কাটছিলেন পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের আওতাধীন ময়নাগঞ্জ সাব-অফিসের কর্মচারীরা। এসময় জগন্নাথপুর থেকে বিশ্বনাথগামী একটি অটোরিক্সা (সিলেট-থ, ১২-৬৭৫১) মঠুককোনা অংশে আসার সাথে সাথে বিদ্যুৎ কর্মচারীদের কেটে ফেলা ডাল তার উপরে পড়ে যায়। এসময় মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন গাড়ির যাত্রী তৌরিছ আলী। গুরুতর আহত হন অটোরিক্সা চালক রফিক মিয়া।
received_1575797262466865দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিক্সাতে থাকা যাত্রী, জগন্নাথপুরের হলিয়ারপাড়া গ্রামের সুলতান মাহমুদ জানান, মঠুককোনা নামক এলাকায় আসার সাথে সাথে হঠাৎ করেই আমাদের বহনকারী গাড়ির উপর গাছের একটি ডাল পড়ে সামনের সিটে থাকা এক যাত্রী ও চালকের মাথায় আঘাত করে। ঘটনার আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন চালক। গাড়িটি পাশ্ববর্তী জমিনে পড়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কোনোরকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করেই সড়কের উপরে থাকা গাছের ডাল কাটছিলেন বিদ্যুৎ কর্মচারীরা। তারা আমাদের বহনকারী গাড়ীটিকে কোনো সিগনালও দেননি।
IMG_20171105_211228_519তবে, গাছের ডাল কাটার দায়িত্বে থাকা পল্লীবিদ্যুৎ ময়নাগঞ্জ সাব-অফিসের লাইনম্যান কোকিল দাশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা গাড়িটিকে সিগনাল দিয়েছি। কিন্তু ড্রাইভার সিগনাল মানেননি। একই কথা জানান পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের এজিএম নাজমুল হাসান।

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে লাশ সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা ১৯ মিনিট) থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নিহত তৌরিছের স্বজনেরা।

Related posts