September 23, 2018

বিশ্বনাথে ঘোষণা দিয়েও দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান নেই পুলিশের!

imagesবিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: ঘোষণার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামেনি বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ৫ জুন নিজেদের ফেসবুক আইডিতে দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযানে নামার ঘোষণা দেয় থানা পুলিশ। সে সময় তাদের এ ঘোষণাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়ে দ্রুত অভিযানে নামার জন্যে দাবী তুললেও অনেকেই আবার এর সফলতা নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় প্রকাশ করেন। দুই মাস পেরিয়ে যাবার পরও পুলিশ অভিযানে না নামায় তাদের সে সন্দেহ অনেকটাই বাস্তবে রুপ নিতে চলেছে। কত মাস পেরুনোকে ‘শিগগিরই’ বলে-অনেকে এমন প্রশ্নও তুলেছেন। তবে, অভিযানে না নামার অভিযোগ সঠিক নয়, বরং ‘এটা অব্যাহত আছে’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিসহ অনেকেই সমিতির নাম করে হোক বা ব্যক্তিগতভাবে হোক-অনেকটাই নির্বিঘ্নে রমরমা দাদন ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক দাদন ব্যবসা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এদের খপ্পরে পড়ে পথে বসার যোগাড় হচ্ছে অনেকেরই। শুধু তাই নয়, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুক্তিমাফিক টাকা নিতে আসা লোকজনের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও ব্যাংক একাউন্টের সাদা চেক রেখে পরবর্তীতে তাদেরকে জমি লিখে নেয়া এবং মামলা দেয়ার ভয়ও দেখানো হয়-এমন অভিযোগও রয়েছে। দাদন ব্যবসায়ীদের অনেকেই প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পায় না।

উপজেলার অনেক ভুক্তভোগী এই সমস্ত দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোখিক অভিযোগ জানিয়ে আসার প্রেক্ষিতে এদের দমনে অভিযানে নামবে বলে জানায় বিশ্বনাথ থানা পুলিশ। গত ৫ জুন মঙ্গলবার রাতে নিজেদের ফেসবুক আইডিতে শিগগিরই অভিযানে নামার ঘোষণা দেয় তারা। এতে সুদখোরের উৎপাত, তাদের দ্বারা নিরীহ লোকজন ক্ষতিগ্রস্থ, মামলা হয়রানীর শিকার হয়ে পুলিশের কাছে ন্যায্য বিচার দাবী করছে স্বীকার করে উল্লেখ করা হয়, ‘ইদানিং বিশ্বনাথের বিভিন্ন এলাকায় সুদখোরের হাতে নিরীহ মানুষ তিগ্রস্থ, লাঞ্চিত হওয়ার সংবাদ প্রায় সময়ই পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ে সুদখোরেরা নিরীহ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানীসহ বিভিন্নভাবে তির দিকে ধাবিত করছে। যা গত কয়েকদিন ধরে পুলিশের নজরে পড়ে। সুদখোরের কাছে জিম্মি হওয়া অনেক নিরীহ লোকজন পুলিশের কাছে এসে তাদের ন্যায্য বিচার দাবী করছে। পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে শিগগিরই সুদখোরদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামবে।’

থানা পুলিশের এ ঘোষণাকে অনেকেই তখন স্বাগত জানিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনার দাবী তুলেন। তবে, অনেকেই দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বলেকয়ে অভিযানে নামার ঘোষণাকে রহস্য ও সন্দেহের চোখে দেখেন। কেউ কেউ এর সফলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। থানা পুলিশের সেই পোস্টে সুন্দর আলী রুহুল নামে একজন লিখেছেন, ‘বাস্তবায়ন হবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে, কারণ কোনো অভিযানে নামার আগে এতো প্রচারণা হলে নিশ্চয়ই অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যাবে।’ প্রণব চক্রবর্তী নিরব নামের একজন লিখেছেন-‘এই খবরটা তাদের জন্যই সুখবর যারা শুনে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারবে, অভিজানের আগেই।’ পাভেল সামাদ নামে একজন লিখেছেন-‘সারাদেশে মাদক বিরোধী অভিযান চললেও বিশ্বনাথে ছোটখাটো একটি অভিযানও পরিচালিত হয়নি। এরমধ্যে হঠাৎ করে ঢাকডোল পিটিয়ে সুদখোরদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেয়া কতটা সুফল বয়ে আনবে উপজেলাবাসীর জন্যে? এমন ঘোষণা কি সুদখোরদেরকে সতর্ক করে তুলতে এবং এথেকে তাদের গা বাচাতে কৌশলী ভূমিকা অবলম্বনে সহায়ক হবেনা?’ হানিফ আহমদ নামে আরেকজন লিখেছেন-‘অভিযান কি সফল হবে?’

এ ব্যাপারে কথা হলে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, সুদখোরদের (দাদন ব্যবসায়ী) বিরুদ্ধে অভিযানে নামেনি পুলিশ-এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক সত্য হল, সুদখোরের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যদি কোনো অভিযোগ না আসে, তা হলে তো আমরা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারব না। তদুপরি আমাদের কাছে যে দুই তিনটা পক্ষ এসেছে, তাদেরকে আমরা উপযুক্ত আইনি সহায়তা দিচ্ছি। এমন সহায়তা পেয়ে একজন লোক উপকৃতও হয়েছেন ইতিমধ্যে। সুদখোরের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ বা নির্যাতনের শিকার হয়ে কেউ এলে অবশ্যই আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। এখনও পর্যন্ত এ রকম কেউ না আসাতে আমরা সামগ্রিক কার্যক্রম নিতে পারছি না।

Related posts