March 23, 2019

বিশ্বনাথে ঘরে-বাইরে কঠিন চ্যালেঞ্জে সুহেল চৌধুরী

upazilla-election-725x421মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে :: আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘরে-বাইরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের শক্তিশালী প্রার্থীকে নিয়ে আওয়ামী লীগের একাট্টা হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদে বিএনপি ঘরানার আরেক প্রার্থী থাকাটাই তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ঘরে-বাইরের এ দুটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কতদুর এগোতে পারবেন বিএনপি ঘরানার এই বর্তমান জনপ্রতিনিধি, সেটা দেখতে অপেক্ষাই করতে হবে মনে করছেন রাজনীতির অভিজ্ঞমহল।

বিগত ৪র্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আলহাজ্ব পংকি খানকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। সেবার দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলেও এবার অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে বিএনপি থেকে কেউ প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের হুশিয়ারী দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করেই ফের চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নিজের কাপপিরিচ প্রতিকের প্রচারণায় মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। একই পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নিজের আনারস প্রতিকের প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের কলচেস্টার বিএনপির সভাপতি মিছবাহ উদ্দিন। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে যিনি শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছিলেন। দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রার্থী হওয়ায় ৩ মার্চ রবিবার রাতে তাদের দু’জনকেই বহিস্কার করেছে বিএনপি। বিএনপি ঘরানার প্রার্থী মিছবাহ ঘরের শত্রু বিভীষণের মত আবির্ভূত হওয়ায় এবং আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এসএম নুনু মিয়া নৌকা প্রতীক নিয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে মাঠে থাকায় ঘরে-বাইরে রীতিমত বিপাকে পড়েছেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। নিজ ঘরেই আরেক প্রার্থী থাকায় এই অঞ্চলের বিএনপির ভোটব্যাংকও বিভক্ত হয়ে পড়ছে। ইতিমধ্যে সুহেল-মিছবাহকে ঘিরে কার্যত ষ্পষ্ট হয়ে পড়েছে উপজেলা বিএনপির পুরনো দ্বিধাবিভক্তি। দু’প্রার্থীর পক্ষে দু’ভাগ হয়ে পড়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরাও। যা ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাবও ফেলছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির মধ্যে দ্বিধাবিভক্তি থাকলেও অনেকে মনে করেছিলেন উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হবে তারা। কিন্তু দলীয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় তা উপেক্ষা করে সুহেল-মিছবাহ দু’জনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পুরনো বিভক্তি থেকে বেরুতে পারেননি নেতা থেকে শুরু করে কর্মীরা পর্যন্ত। যে কারণে দুই প্রার্থীর পক্ষে দু’ভাগ হয়ে প্রকাশ্যেই প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা। মিছবাহ উদ্দিনের পক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একটি অংশ প্রচার-প্রচারণাতে থাকায় বিপাকে আছেন সুহেল আহমদ চৌধুরী। যদিও তার পক্ষে কাজ করছে উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশ।

অপরদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি বলয় থাকলেও ১৮ মার্চের উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের জয় নিশ্চিত করতে একাট্টা হয়েছে দুটি বলয়ই। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার কান্ডারী এসএম নুনু মিয়াকে নিয়ে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। যার ফলে অনেকটা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত এই প্রার্থী। এটাও বড় ধরণের চ্যালেঞ্জে ফেলেছে সুহেল আহমদ চৌধুরীকে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারে ফের বসতে ঘরে-বাইরের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কতদুর এগোতে পারবেন তিনি? উত্তরের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে ১৮মার্চ পর্যন্ত!

মিছবাহ উদ্দিনের পক্ষে প্রচারণায় থাকা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীরা জানান, সুহেল আহমদ চৌধুরী বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই নেতাকর্মীদের সাথে দুরত্ব বজায় রাখতে শুরু করেন। তিনি সব সময় নিজের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, জনগণ, দল বা নেতাকর্মীদের নয়। তাই, এবার আর কেউ-ই তাকে চায় না। সকলেই চাইছে নতুনত্ব।

তবে, সুহেল আহমদ চৌধুরীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেয়া বিএনপির অনেক নেতাকর্মী এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবী করে বলেন, তিনি আপাদমস্তক বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা। বিএনপির সকল আন্দোলন-সংগ্রামেই তিনি সামনের সারিতেই থেকেছেন। তিনি একজন কারা নির্যাতিত নেতাও। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সবসময় জনস্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা উন্নয়ন করেছেন। কখনোই কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি। উপজেলা থেকে শুরু করে তৃণমূল বিএনপিসহ সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অতি জনপ্রিয়। যে কারণে এবারও ভোটাররা বিপুল ভোটে তাকে বিজয়ী করবেন।

ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জে থাকা বিএনপি ঘরানার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী (বর্তমান চেয়ারম্যান) ও জেলা বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে কোনো ধরণের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে সবকটি ইউনিয়নে সমবন্টনে উন্নয়ন করেছি। বিতর্কিত কোনো কর্মকান্ডে জড়িত হইনি। এছাড়া, বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। যে কারণে জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভালবাসা অর্জন করতে পেরেছি। আর তাদের চাপেই এবারও প্রার্থী হয়েছি। বিগত পাঁচ বছরে আমি যে কাজ করেছি, তার মূল্যায়ন করে উপজেলাবাসী আবারও আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস।

Related posts