November 20, 2018

বিশ্বনাথে গেইট নিয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত

IMG_20180904_192745বিশ্বনাথ ( সিলেট)প্রতিনিধি :: প্রথমত এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য সড়কটি প্রসস্ত করতে ভূমি দান, এরপর সেটি আবার নিজেদের কষ্ঠার্জিত প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকাকরণ (আরসিসি ডালাই) করে দেওয়া পরও অন্ত নেই সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের (বড় বাড়ি) ফয়ছল আহমদ তালুকদার গংদের। এলাকার ৫৭টি পরিবারের মধ্যে ৫৫টি পরিবার যেখানে সড়কটি (হোসেনপুর গ্রামের সড়ক) পাকাকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য সড়কের প্রবেশ মুখে থাকা গেইটটি আধুনিকায়ন করার পক্ষে, সেখানে তা মাত্র ২টি পরিবারের সদস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ওই ২টি পরিবারের সাথে হোসেনপুর গ্রামের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু স্বার্থলোভী মানুষ জোট বেধেঁছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

হোসেনপুর গ্রামের সড়কটি পাকাকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে বাঁধা প্রদানের অপচেষ্ঠার অংশ হিসেবে গত ৮ আগস্ট উপজেলা প্রকৌশলী বরাবরে হোসেনপুর গ্রামের আশিকুর রহমান রানা ওরফে কাছা মিয়া (ওই দুই পরিবারের সদস্য)’র নেতৃত্বে মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগপত্রে ‘হোসেনপুর-মুফতিরবাজার সরকারি সড়কে’ রাতের আধাঁরে প্রভাবশালী কর্তৃক গেইট ও দেয়াল নির্মাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষরগুলোর মধ্যে অনেক স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে মর্মেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে অভিযোগপত্রের সত্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

অথচ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ‘হোসেনপুর-মুফতিরবাজার সরকারি সড়কে’র কোথায় গেইট বা দেয়াল নির্মাণের কাজ হচ্ছে না। উন্নয়ন কাজ চলছে হোসেনপুর গ্রামের ভিতরের সড়কটি। এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে রাতের আধাঁরে নয়, প্রায় ২/৩ মাস পূর্বে থেকেই দিনেদুপুরে সড়কটিতে আরসিসি ডালাইয়ের কাজ চলছে। আর সড়ক পাকাকরণের সাথে সাথে সড়কের প্রবেশ মুখে অনেক পূর্বের স্থাপনকৃত দেয়ালের পাশে থাকা ‘গেইটটি’র সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও চলে আসছে। যে গেইটটিতে পূর্ব থেকেই ‘হোসেনপুর বড় বাড়ি’ লেখা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, হোসেনপুর গ্রামের ভিতরের ওই সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৬০ ফুট ও প্রস্থ ১০ ফুট (রেকডিয় সড়ক)। এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য ফয়ছল আহমদ তালুকদার গংরা নিজেদের বাড়ির ভিতরের প্রায় ৪৩৫ ফুট সড়কের সাথে ৪৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সড়কের মধ্য প্রায় ২৫০ ফুট সড়ক আরসিসি ডালাইয়ের মাধ্যমে পাকাকরণ করে দিয়েছেন সম্পূর্ন নিজেদের টাকা (মোট ব্যয় ১২ লাখ) দিয়ে। এমনকি সড়কটি প্রসস্ত করতে ওই ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সড়কে প্রায় ৬ ফুট করে ভূমি দান করেছেন। তাছাড়া সড়কের অবশিস্ট থাকা প্রায় ২১০ ফুট অংশও আরসিসি ডালাই করার জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকার আরেকটি ফান্ডও প্রায় প্রস্তুত করে ফেলেছেন তারা (ফয়ছল গংরা)। এছাড়া অবশিস্ট সেই অংশেও সড়ক প্রসস্ত করতে হলে তাদেরকে (ফয়ছল) আরোও ভূমি দান করতে হবে। তবে কোন দিনও তাদের (ফয়ছল) পরিবারের পক্ষ থেকে সড়ক দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কাউকেই কোন প্রকারের বাঁধা প্রদান করা হয়নি। তাই পুরাতন গেইট ও দেয়াল নিয়ে শুধু শুধু তাদেরকে (ফয়ছল) হয়রাণী করা ছাড়া আর কোন কারণ নেই।

এব্যাপারে ফয়ছল আহমদ তালুকদার বলেন, আশিকুর রহমান রানা ওরফে কাছা মিয়া মানুষের স্বাক্ষর জাল করে ও অন্যান্য গ্রামের মানুষের নাম ব্যবহার করে আমাদের গ্রামের সড়কের উন্নয়নে বাঁধা প্রদানের অপচেষ্ঠায় জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দিয়েছে। অথচ সে নিজেই বাড়ির সীমানার ভিতরেই সরকারের প্রায় ৫ ফুট জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। আর আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রামের সড়ক দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য ব্যক্তি মালিকাধীন ভূমি দানের পাশাপাশি আরসিসি ডালাই করে দিচ্ছি।

এব্যাপারে আশিকুর রহমান রানা ওরফে কাছা মিয়া বলেন, তার (ফয়ছল) বক্তব্য সম্পূর্ন মিথ্যা। সড়কটি সরকারি। যা ১নং খতিয়ানের সাবেক দাগ ৩০১, বর্তমান ৪৪০। ১৯৯৮ সালে আবদুল খালিক গংরা সড়কটি তাদের জায়গা বলে মামলা করে হেরেছেন। যা পরবর্তিতে জেলা প্রশাসকের নামে ১৯ শতক রাস্তা লিপিবদ্ধ। এরপর ২০০৮ সালে আবারও অবৈধ স্থাপনার কাজ শুরু করলে তা সরকারি উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়।

তদন্তের জন্য এলাকা পরিদর্শন করা সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করা হবে।

Related posts