October 20, 2018

বিশ্বনাথে খুনিকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে ধুম্রজাল

 

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ (সিলেট) থেকে ::১২ দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্বনাথে স্ত্রী লুবনাকে জবাই করে হত্যাকারী স্বামী হেলাল মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি থানা পুলিশ। হয়নি হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন। এটা নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনি ঘাতক হেলালকে ধরিয়ে দিতে পুলিশের আইফোন-৭ পুরস্কার ঘোষণা নিয়ে রীতিমত ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। গত দু’তিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে হেলালকে ধরিয়ে দিলে এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজান পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের একটি আইফোন-৭ সেট ও লুবনার বোন জামাই মামুন নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করবেন-এমন খবর প্রকাশ পায়। কিন্তু, পুলিশের পক্ষ থেকে আইফোন-৭ পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। আর এতেই সৃষ্টি হয় ধুম্রজালের। এসআই মিজান আইফোন-৭ পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি ভূয়া আখ্যায়িত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি কেন পুরস্কার ঘোষণা করব। থানা পুলিশ পুরস্কার ঘোষণা করলে সবার আগে তো আপনাদের (সাংবাদিকদের) জানার কথা। তবে, এ ব্যাপারে লুবনার ছোটবোনের স্বামী মামুনের সাথে কথা হলে তিনি প্রথমে জানান, হেলালকে ধরিয়ে দিলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজান আইফোন-৭ পুরস্কার দেবেন আর আমি দেব ৫০হাজার টাকা পুরস্কার। আইফোন-৭ দেবার বিষয়টি এসআই মিজান অস্বীকার করেছেন জানালে মামুন বলেন, সংবাদপত্রে এসআই মিজান আইফোন-৭ পুরস্কার দেবেন শুনে আমিও ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেছি।

বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পুরস্কার ঘোষণা করা হয়নি। পুলিশ হন্য হয়ে হেলালকে খুঁজছে। তাকে গ্রেফতার করলেই খুনের রহস্য জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রী লুবনা বেগমকে জবাই করে খুন করেন তার স্বামী হেলাল মিয়া। হেলাল উপজেলার জানাইয়া গ্রামের মৃত জহুর আলীর ছেলে ও লুবনা দেওকলস ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মৃত ওয়াহিদ আলীর মেয়ে। ২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। আল-আমিন (৯) ও নাজিফা বেগম (৩) নামে তাদের দু’সন্তান রয়েছে। ঘটনার তিনদিনের মাথায় লুবনার বড় ভাই কামরুল হুদা বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় হত্যা মামলা (নং ১৪) দায়ের করেন।

Related posts