September 22, 2018

বিশ্বনাথে একই পরিবারের ৬ জন অগ্নিদগ্ধের ঘটনাটি রহস্যজনক

পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ গৃহকর্তার

DSC_0783বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের রহিমপুর পূর্বপাড়া (রামপুর) গ্রামে অগ্নিকান্ডে একটি অসহায় পরিবারের ৬ জন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি রহস্যজনক ও একটি পরিকল্পিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনাটি আড়াল করতে মশার কয়েল থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ঘটনার পর গুজব ছাড়ানো হয়েছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন। তবে শক্রতা বশত পরিকল্পিতভাবে কেউ অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন গৃহকর্তা অগ্নিদগ্ধ ফারুক মিয়া (৫০)।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতিদিনের ন্যায় গত মঙ্গলবার রাতে তার স্ত্রী, ১ মেয়ে ও ৩ পুত্রকে নিয়ে নিজ বসত ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক পনে ২টায় স্ত্রী চম্পা বেগম তার ছোট পুত্র নিজাম উদ্দিন প্রস্রাব করতে চাইলে তাকে তিনি (চম্পা) ঘরের বাহিরে নিয়ে প্রস্রাব করান। এরপর তিনি ঘরে ফিরে আসার কিছু সময় পর (জাগ্রত অবস্থায়) দেখতে পান ঘরের সামনের ষ্টীলের দরজার নীচ দিকের ভাঙ্গা ছিদ্র দিয়ে কেউ একজন বাহির থেকে ঘরের ভিতরে আগুণের মতো কিছু নিক্ষেপ করছে। মহুর্তেই আগুণের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে ঘরের ভিতরে। এসময় ফারুক মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজা খুলার চেষ্টা করেন কিন্ত দরজার সামনে আগুণ থাকায় তারা তাতে ব্যার্থ হন। তাদের আত্ম চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দরজা ভেঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করেন। আগুণে দগ্ধ হন ফারুক মিয়া (৫০), তার স্ত্রী চম্পা বেগম (৪৫), মেয়ে রিফা বেগম ( ১৮), ছেলে এমাদ উদ্দিন (১৪), ইমরান আহমদ (১২) ও নিজাম উদ্দিন (১০)। ঘাটনার পর তাদেরকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে চম্পা বেগম ও তার মেয়ে রিফা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তারা ঐ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরদিন আহতদের আত্মীয় উপজেলার টেংরা গ্রামের বাসিন্দা ও বিশ্বনাথ নতুনবাজার বণিক কল্যাণ সমিতির কমিশনার আব্দুল মতিন রণি আহতদের বাড়ির প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি মশার কয়েল থেকে সূত্রপাত হয়েছে। কিন্ত পরবর্তিতে তিনি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মশার কয়েল থেকে অগ্নিকান্ডের যে সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রচারণা করা হয়েছে তা সঠিক নয়। এটি একটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের ঘটনা।
আজ শুক্রবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যে কয়েল থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রচার করা হয়েছিলো সেই পুড়ে যাওয়া কয়েলটি পুড়ে ছাইভষ্ম হয়ে একটি টিনের কৌটার উপর এখনও অক্ষত রয়েছে। কয়েল থেকে আগুণের সূত্রপাত হলে পুড়া কয়েলের গুড়াসহ টিনের কৌটার উপর থাকার কথা নয় এবং যে খাটের নীচে পুড়া কয়েলটি রয়েছে সেই খাট ও বিচানাপত্রে আগুণে পুড়ার কোন চিহৃ পাওয়া যায়নি। ঘরের ভিতরে দরজার পাশে থাকা একটি কাটের সোফা ছাড়া আর কিছুই আগুণে পুড়েনি। তবে ঘরের ভিতরে দরজার সামনে পুড়ে যাওয়া একটি ঝাড়ু (রেমা) রয়েছে এবং পুড়ে যাওয়া ঝাড়ুটির হাতলের অক্ষত থাকা সামান্য অংশ দেখে বুঝা যায় ঐ ঝাড়ুটি নতুন। তবে ঝাড়ুটি অগ্নিদগ্ধ পরিবারের নয় বলে দাবি করেন গৃহকর্তা ফারুক মিয়ার পুত্র রাজু মিয়া। ধারণা করা হচ্ছে স্টীলের দরজার নীচ দিকের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঝাড়ুতে করে কোন জাতিয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে কেউ অগ্নিসংযোগ করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ফারুক মিয়ার পরিবারের সাথে তাদের গ্রামের নিকট আত্মীয়দের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছে এই বিরোধের জের ধরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়ে মশার কয়েল থেকে আগুণের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা ভয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় ওয়ার্ডে সাবেক মেম্বার মৌরশ আলী সহ এলাকার অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। যদি কেউ শক্রতাবশত এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

এব্যাপারে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related posts