September 23, 2018

বিশ্বনাথে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত গৃহবধূর দাফন সম্পন্ন : এলাকায় শোকের ছায়া

2-1বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি :: বিশ্বনাথে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহত গৃহবধূ চম্পা বেগম (৪৫) এর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। রোববার (২সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের রহিমপুর পূর্বপাড়া (রামপুর) গ্রামের জামে মসজিদে মরহুমার জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে রহিমপুর পূর্বপাড়া (রামপুর) গ্রামে নিজ বসতঘরে অগ্নিকান্ডে গৃহবধূ চম্পা বেগম, তার স্বামী ফারুক মিয়া (৫০), পুত্র এমাদ উদ্দিন (১৪), ইমরান আহমদ (১২), নিজাম উদ্দিন (১০) ও একমাত্র মেয়ে রিপা বেগম (১৮) দগ্ধ হন। তাদের আত্মচিৎকারে এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে ঘরের স্টীলের দরজা ভেঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার সময় ওই পরিবারের বড় ছেলে রাজু আহমদ (২৫) অন্য ঘরে থাকায় সে ছাড়া পরিবারের বাকি ৬ সদস্যই দগ্ধ হন। চম্পা বেগম ও তার মেয়ে রিফা বেগমের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে গত শনিবার রাতে নিহতের স্বামী অগ্নিদগ্ধ ফারুক মিয়া, পুত্র এমাদ উদ্দিন, ইমরান আহমদ ও নিজাম উদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ৫ম দিনের মাথায় রোববার (২সেপ্টেম্বর) ভোরে মৃত্যুবরণ করেন চম্পা বেগম।

এদিকে, একই পরিবারের ৬জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে গৃহবধূ চম্পা বেগমের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চম্পা বেগমের মৃত্যুর সংবাদটি তার বড় পুত্র রাজু ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধিন মেয়ে ও অন্য পুত্ররা এখনো জানেন না। মায়ের মৃত্যু ও পরিবারের সকল সদস্য অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় দিশেহারা রাজুকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও এলাকার লোকজন।

চম্পা বেগমের জানাযার নামাজে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহন করেন। জানাযার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল, মরহুমার চাচাতো ভাই ডাঃ আব্দুর রউফ এবং নিহতের বড় ছেলে রাজু আহমদ।

বক্তব্যে রাজু আহমদ বলেন, আমরা আজ অসহায়। আমার মা-বাবা, ভাই-বোনকে হত্যার জন্য পরিকল্পিতভাবে কেউ আমাদের ঘরে আগুণ দিয়েছে। আজ আমার মা মারা গেছেন, আমার একমাত্র বোন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, আমার বাবা ও ৩ ভাই হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

পুলিশ প্রশাসন, সাংবাদিকবৃন্দ ও দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল হৃদয়বান ব্যক্তিবর্গের প্রতি গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে ছহিফাগঞ্জ এস.ডি মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুর রউফ তার বক্তব্যে বলেন, যারাই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

Related posts