November 15, 2018

বিব্রত ডিএমপি !

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি গোয়েন্দা টিম ঢাকার পুলিশকে কিছু না জানিয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ডাক্তার শামীম খান তপুকে তুলে নিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরকে একটি প্রতিবেদন দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ডিএমপি অনুরোধ করেছে।

সিএমপির অভিযানে বিব্রত ডিএমপি

গত ৭ জানুয়ারি পুলিশ সদর দফতরে ‘সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের অপহরণ প্রসঙ্গে’ একটি চিঠি দিয়েছে ডিএমপি। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে,‘চিকিৎসক তপু অপহরণের বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় স্বজনদের জিডির সূত্র ধরে তদন্ত করে দেখা গেছে,চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি টিম জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে তাকে ১ জানুয়ারি হেফাজতে নেয়।পরদিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তাকে মিন্টুরোডে পাওয়া যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানায়নি সিএমপির পুলিশ, যা ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার‌্যবিধির ৬০ ধারার পরিপন্থি।’

ফৌজদারী কার্যবিধির ৬০ ধারার বর্ণনা দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘কোনও নির্দিষ্ট থানা অধিক্ষেত্রে অন্য কোন থানা অথবা ইউনিট অভিযান পরিচালনা করলে এবং সে অভিযান থেকে কোন আটক বা উদ্ধার থাকলে,অভিযানের পূর্বে অথবা পরে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারকারী পুলিশ অফিসার অনাবশ্যক বিলম্ব না করে গ্রেফতার ব্যক্তিকে এখতিয়ারধীন কোনও ম্যাজিষ্ট্রেট অথবা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসারকে অবহিত করার সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু তপুকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে এই বিধান অনুসরণ করা হয়নি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষানবিশ ডা. শামীম খান তপুকে হেফাজতে নেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের ভাষায় ‘অপহৃত সহকর্মীকে দ্রুত উদ্ধারের’ দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে।সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যালের সামনে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে তার সহকর্মীরা।অবরোধের কারণে একটি অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।’

বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) বরাবর লেখা ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,‘চট্টগ্রামের পুলিশ ছাড়াও কিছু কিছু সংস্থা সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত (অভিযানের পূর্বে ও পরে) না করে ডিএমপি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে থাকে। অভিযানের পর এ সংক্রান্ত খোঁজ-খবর নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কিংবা মিডিয়া কর্মীরা থানার শরণাপন্ন হলে থানা থেকে কোনও তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব

হয় না। এতে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডিএমপি কর্তৃপক্ষকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।’
চিঠিতে পুলিশ সদর দফতরকে আরও অনুরোধ করা হয়, ‘কোনও ইউনিট বা টিম, কোনও থানা অধিক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনা করলে কিংবা অভিযানের প্রেক্ষিতে কোনও প্রকার আটক বা উদ্ধার থাকলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করার নির্দেশ প্রদানের জন্য।’

চট্টগ্রামের পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের তালিকায় ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ চট্টগ্রামের জেএমবি কমান্ডার ফারদীন ওরফে নোমান ওরফে নাফিসকে গ্রেফতার করতে মাঠে নামে চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার খোঁজ করতে এসে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক শামীম খান তপুর সন্ধান পায় পুলিশ। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হোস্টেলের কক্ষে জেএমবি নেতা ফারদীনকে আশ্রয় দিয়েছিলেন শিক্ষানবিস ডা. শামীম খান তপু। এরপর চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ তাকে তুলে নেয়। তাকে অজ্ঞাত স্থানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার জেএমবির একটি আস্তানা থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাইমুর রহমান, ফয়সাল মাহমুদ ও শওকত রাসেলকে গ্রেফতার করে সিএমপি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডা. তপুকে ধরা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের আন্দোলনের একদিন পর ওই চিকিৎসককে ছেড়ে দেয় চট্টগ্রামের গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতার ওই তিন জেএমবি সদস্য পুলিশকে জানায়, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক ডাক্তার বন্ধুর কাছে আশ্রয় নিয়েছে তাদের দলনেতা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক ছাত্র ও জেমএবি নেতা ফারদীন।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, ফারদীনের মোবাইল কললিস্ট ট্রাকিং করে ওই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে এই জেএমবি নেতা ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বয়েজ হোস্টেলের ৪১৩ নম্বর কক্ষে ইন্টার্ন চিকিৎসক শামীম খান তপুর কাছে আশ্রয় নেয়ার খবর জানতে পারেন গোয়েন্দারা। অস্ত্রসহ ওই কক্ষে ফারদীন আশ্রয় নেয়ার খবর নিশ্চিত হন গোয়েন্দারা। কিন্তু সেখানে অভিযান চালানোর আগেই আত্মগোপনে যান ফারদীন। সেখানে অবস্থানের সময় ফারদীনের হাতে ব্যান্ডেজ লাগানো ছিল বলেও জানতে পারেন গোয়েন্দারা।

এ বিষয়ে জানার জন্য সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) দেবদাস ভট্টাচার্য্য মোবাইল ফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘বিষয়টি আমরা জানা নেই। আমি কিছু বলতে পারব না।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts