September 23, 2018

বিপুল পরিমান ভেজাল ওষুধ জব্দ, ২ জনকে জরিমানা

রাজধানীর বনানী এলাকায় ড্রিম টুগেদার লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও কয়েক হাজার বোতল সিরাপ জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত। উদ্ধারকৃত ঔষধের মূল্য ২০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও আর্থিক দণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার র‌্যাব-২ এর উপ-পরচিালক মো. দিদারুল আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সির নেতৃত্বে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন অভিযানটি পরিচালনা করেন। অভিযানে আটককৃতরা হলেন ড্রিম টুগেদার লিমিটেডের মালিক মো. মাইন উদ্দিন (৪১) এবং সহকারী ম্যানেজার মো. শোয়েব আহম্মেদ (৩৩)।

এ সময় ওই কারখানা থেকে ড্রিম ত্রিফলা চূর্ণ, নিম ন্যাচারাল টুথপেসর‌স্ট ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু, এ্যালোভেরা ন্যাচারাল শ্যাম্পু, ড্রিম নাইজেলা ক্যাপ, ড্রিম গ্লুকো কন্ট্রোল, ড্রিম সয়া প্রোটিন, ডি-পাওয়ার এক্স, এ্যালোভারা ন্যাচারাল লাক্সারি, এ্যালো জেল ফেসিয়াল, DREMOVIT, RUCHITA SUPER, STOFINE, LECURE, LIVDONIL, LEVO CARE, URONIL,dream X, Cardiosolve, আর্থোকিল, আর্থোমিট, ডায়াকিউর, স্ক্রিন কেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের এক লক্ষ দশ হাজার পিস ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল এবং পাঁচ হাজার বোতল সিরাপ জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য বিশ লক্ষ টাকা টাকা।

র‌্যাব-২ এর উপ-পরচিালক মো. দিদারুল আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ড্রিম টুগেদার লিমিলেডের মালিক মাইন উদ্দিন জানান, বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কোনো লাইসেন্স নেই। প্রতিষ্ঠানটি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির মত হকারের মাধ্যমে রাস্তায় রাস্তায় ঔষধ বিক্রি করে।

র‌্যাব জানায়, অনুমোদন ছাড়াই বিএসটিআইয়ের লগো ব্যবহার করে আসছিল তারা। আমদানীকৃত ঔষধের কোনো নিবন্ধনও (DAR) নেই। এসব মানহীন ও ভেজাল ঔষধ মানব দেহে বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন আলসার, গ্যাসট্রিক, বহুমুত্র, যৌন দূর্বলতাসহ বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে সরবরাহ করে আসছিল। এ সব ঔষধের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রতিষ্ঠানের মালিক কোনো সদ্দুত্তর দিতে পারেননি এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে বিভিন্ন স্বনামধন্য কোম্পানির ৪০ ধরনের ঔষধ অবৈধভাবে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, ডায়াগনস্টিক ল্যাবে উৎপাদনের তারিখবিহীন ও মেয়াদউত্তীর্ণ রিএজেন্ট থাকা, ল্যাবে রিএজেন্ট নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করা, ল্যাব টেকনেশিয়ান না থাকাসহ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ল্যাব পরিচালনা করার কারণে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ড্রিম টুগেদার লিমিটেডের মালিককে ১৯৪০ সনের ড্রাগ এ্যাক্টের ১৮(সি) ও বিএসটিআই অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ২৪/১৯ ধারা মোতাবেক পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড; সহকারী ম্যানেজার মো. শোয়েব আহম্মেদকে (৩৩) ১৯৪০ সনের ড্রাগ এ্যাক্টের ১৮(সি) ধারা মোতাবেক এক লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts