September 25, 2018

বিপজ্জনক সহকর্মী চেনার উপায়

সহকর্মী

একজন চৌকষ সহকর্মী নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন। একজন চতুর সহকর্মী নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য অন্যের দক্ষতা স্ন্নান করার ফাঁদ পাতেন। এই বিষয়গুলোতে আপনার সতর্ক থাকা দরকার
বিপজ্জনক-সহকর্মী মানেই শত্রু নয়। অফিসে যেমন শুভাকাঙ্ক্ষীরা থাকেন, তেমনি থাকেন শত্রু ও বিপজ্জনক সহকর্মীরাও। চিনতে ভুল করলে তার মাশুলও গুনতে হয় কড়ায়গণ্ডায়। এই চেনা ও চিনতে পারা একটি প্রক্রিয়া। দশটি পরামর্শ রইল, যা এই জটিল প্রক্রিয়ায় সঠিক মানুষটিকে চিনতে সাহায্য করবে।

এক.

মনে রাখতে হবে এবং মেনে নিতে হবে, সম্পর্ক কখনোই চিরন্তন সত্য নয়। বিশ্বাসে অন্ধ থাকলে আপনি কখনোই বিপজ্জনক সহকর্মী দ্রুত চিনতে পারবেন না। শত্রুও যেমন কোনো একদিন বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন, আবার শুভাকাঙ্ক্ষীও পরিস্থিতি সাপেক্ষে হয়ে উঠতে পারেন বিপজ্জনক সহকর্মী। এই দুটো ক্ষেত্রেই আপনার অবস্থান যেন অন্ধবিশ্বাসে প্রভাবিত না হয়। শুভাকাঙ্ক্ষী যখন বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন, তখন অবিশ্বাস্য মনে হয়। কিন্তু অসম্ভব নয়। সুতরাং ধরে নিন, বিপজ্জনক সহকর্মীর অবস্থান সর্বত্রই হতে পারে।

দুই.

তিন ধরনের চরিত্র চিহ্নিত করুন। ১. যাঁরা ব্যক্তিগত মতামত আড়াল করেন, পরিস্থিতি সাপেক্ষে যা বললে ভালো হয় তাই বলেন। ২. যাঁরা অপ্রিয় হলেও সত্য কথাটাই বলেন, কে কী ভাবল এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করেন না। ৩. এক ধরনের চরিত্র আছে, যাঁরা এই দুয়ের সংমিশ্রণ। কখনো সত্যি কথাটাই বলেন, কখনো পরিস্থিতি বুঝে আড়াল করেন আসল উপলব্ধি। এই তৃতীয় ধরনের সহকর্মীরা বিপজ্জনক কি না সেটা চেনা সবচেয়ে কঠিন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘ড. জেকিল অ্যান্ড মি. হাইডরাই সবচেয়ে বিপজ্জনক সহকর্মী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।

তিন.

ভেবে দেখুন, যিনি সব সময় আপনার প্রশংসা করেন আপনি কি তাকে পছন্দ করেন? (নিশ্চয়ই করেন।) আর যে আপনার ত্রুটি ধরিয়ে দেন আপনি কি তাকে পছন্দ করেন? ভালো করে ভাবুন, কে আপনার উপকার করছেন? বিপজ্জনক সহকর্মী চেনার একটা পরোক্ষ উপায় হলো শুভাকাঙ্ক্ষী চেনা।

চার.

বিপজ্জনক সহকর্মীকে চিনতে হবে আগেই। ঘটনা ঘটার পর চিনতে পারাটাও একটা পদ্ধতি হতে পারে। কিন্তু এর জন্য মাশুলও গুনতে হবে। আগেভাগে চিনতে পারলে সেই আশঙ্কাটা কমে যাবে। সুতরাং অন্য সহকর্মীদের মধ্যকার ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো লক্ষ করুন, দেখুন কার চরিত্র কী। পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও আঁচ তো করতেই পারবেন।

পাঁচ.

মনে রাখবেন, বিপজ্জনক সহকর্মী চেনার জন্য আপনার অনেক বিচক্ষণ ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা থাকা দরকার। সারা অফিসে বিপজ্জনক সহকর্মীর সংখ্যা সব সময় শুভাকাঙ্ক্ষীর তুলনায় বেশি থাকে। শুভাকাঙ্ক্ষী থাকেন হাতেগোনা। পুরো পরিস্থিতিই মারাত্মকভাবে প্রতিযোগিতাপূর্ণ আর রাজনীতিসংকুল। ভুল বিশ্নেষণ আপনার প্রক্রিয়াকে ভুল পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিপজ্জনক সহকর্মী চিনতে গিয়ে যেন আসল শুভাকাঙ্ক্ষীকে না হারান।

ছয়.

যে সহকর্মী অতি উচ্চাভিলাষী, পরশ্রীকাতর, আপনাকে অনুকরণ করে, আপনাকে যে করেই হোক টপকে যেতে চায়, তিনি আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন। তিনি অন্যের চূড়ান্ত ক্ষতির বিনিময়েও নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতি চাইতে পারেন। একজন চৌকষ সহকর্মী নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য নিজের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেন। একজন চতুর সহকর্মী নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য অন্যের দক্ষতা স্ন্নান করার ফাঁদ পাতেন। এ বিষয়গুলোতে আপনার সতর্ক থাকা দরকার।

সাত.

বোকা সহকর্মীও আপনার জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন। আবারও মনে রাখবেন, বিপজ্জনক সহকর্মী মানেই শত্রু নয়। নিজের অজান্তেই আপনার ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারেন কেউ কেউ। পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলার মতো তাঁরা আপনার শত্রু নন।

আট.

খুব চুপচাপ ও মিশুক—এই দুই প্রকৃতির সহকর্মীদের ওপর চোখ রাখুন। এদের মধ্যে লুকিয়ে থাকেন সবচেয়ে বিপজ্জনক সহকর্মীরা। এই প্রক্রিয়াটি একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া। যাঁরা খুব মিশুক তাঁরা স্বভাবতই জনপ্রিয়। আর যাঁরা খুব চুপচাপ তাঁরাও কিন্তু জনপ্রিয়। অর্থাৎ সবাই তাঁদের চেনেন। তাঁরা সর্বপরিচিত। যিনি বা যাঁরা বিপজ্জনক সহকর্মী হন, তাঁদের অন্যতম প্রধান চরিত্র—তাঁরা জনপ্রিয় হন।

নয়.

যাঁরা অধিকাংশ বাক্যে ‘যদি, হয়তো, অথবা, কিন্ত, হতে পারে ইত্যাদি’ অনিশ্চয়তামূলক শব্দ ব্যবহার করেন, তাঁদের প্রতিও নজর রাখুন। এই ধরনের ব্যক্তিত্বরা যা বলেন অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সাপেক্ষে তাঁরা তাঁদের ‘বাক্য’ না পাল্টিয়েই ‘বক্তব্য’ পাল্টে ফেলেন। কারণ বাক্যের ভেতরে এই ফাঁকগুলো তিনি সচেতনভাবেই রেখে দেন, যাতে পরিস্থিতি পাল্টালে তিনিও পাল্টে যেতে পারেন।

দশ.

এবার যদি প্রশ্ন হয়, আপনার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সহকর্মী কে হতে পারে? বিশ্বাস করুন আর না-ই করুন, এর একমাত্র উত্তর, ‘পরিস্থিতি সাপেক্ষে আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহকর্মী। তবে সাধারণ ক্ষেত্রে আপনি যাঁকেই বিপজ্জনক সহকর্মী ভাবুন না কেন, তার অবশ্যই ভিত্তি থাকা উচিত। সবাইকে বিপজ্জনক ভাবা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও বন্ধুহীন কর্মজীবনও দীর্ঘকাল বহনযোগ্য নয়।

Related posts